• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ রজব সানি ১৪৪১

সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করুন

কর্মরতদের ফিরিয়ে আনুন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করার দাবি করেছেন একাধিক সংসদ সদস্য। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে তারা এ দাবি করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে তারা বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীরা শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেক নারী গৃহকর্মী সেখানে কর্মরত অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা হয় স্বাভাবিক মৃত্যু। নির্যাতন-নিপীড়ন বা মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে না দেখা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করা হয় সংসদে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, নারী কর্মীদের কোন ব্রিফিং, প্রশিক্ষণ না দিয়ে পাঠানো হয়- সেটা দেখতে হবে। গৃহকর্মী পাঠাতে হলে এক মাসের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তিনি বলেন, গৃহকর্মীরা যেন সম্মানজনকভাবে কাজ করতে পারেন সেই চেষ্টা করা হবে। সেটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে নারী গৃহকর্মী না পাঠানোর চিন্তা করব।

আমরা প্রথমেই বলতে চাই, নাগরিকদের ভিনদেশে গৃহকর্ম করতে পাঠানো দেশের জন্য কখনোই সম্মানজনক নয়। পৃথিবীর কোন দেশই এ পন্থায় সম্মানের সন্ধান করে না। সম্মানের চিন্তা করলে এ মুহূর্তেই নাগরিকদের গৃহকর্মী হিসেবে ভিনদেশে পাঠানো বন্ধ করতে হবে। নাগরিকদেরকে যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অগ্রসর বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী তাদের তৈরি করতে হবে। এর পরিবর্তে সরকার বর্বর কয়েকটি দেশের চাহিদা অনুযায়ী লোক পাঠাচ্ছে এবং এটা অব্যাহত রাখার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া, ব্রিফ করার কথা ভাবছে। আমরা জানতে চাই, কী প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কীভাবে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন সইতে হয়, নির্যাতিত হওয়ার পরও কিভাবে প্রভুভক্তি দেখাতে হয়, নির্যাতন-নিপীড়ন সম্পর্কে অভিযোগ না করে কিভাবে নিশ্চুপ থাকতে হয় এসব প্রশিক্ষণ দেয়া হবে কিনা এটা একটা প্রশ্ন। কারণ যেসব দেশে নারী গৃহকর্মীদের পাঠানো হয় সেসব দেশ তো এগুলোই চায়। তারা বর্বর যুগের বর্বর কায়দায় গৃহকর্মীর ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালাতে চায়। গৃহকর্মীকে হত্যা করতেও তারা দ্বিধা করে না। তাদের এ অন্যায়-অত্যাচার সংশ্লিষ্ট দূতাবাস দেখেও না দেখার ভান করে। নির্যাতিত ব্যক্তি বা নিহতের স্বজনদের অভিযোগ আমলে নেয়া হয় না। সৌদি কর্তৃপক্ষ সিল-ছাপ্পর দিয়ে যেসব কাগজপত্র ধরিয়ে দেয় সেটাই সাদরে গ্রহণ করা হয়। নিজ দেশের নাগরিকদের প্রতি এ অবহেলা মেনে নেয়া যায় না।

আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে বিদেশে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করা হোক। গৃহকর্ম করার কোন প্রশিক্ষণের আয়োজন করার দরকার নেই। জরুরি হচ্ছে, সেখানে কাজ করতে গিয়ে যারা নির্যাতিত নিপীড়িত হয়েছে তাদের মানসিক, সামাজিক, আর্থিক পুনর্বাসনকরণ। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও হত্যার শিকার ব্যক্তির স্বজনদের ন্যায়বিচার দিতে হবে। এখনও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে যারা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন তাদের অবিলম্বে ফেরত আনতে হবে।