• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১

করোনার দুর্যোগে বিপন্ন পথশিশুদের সুরক্ষা দিন

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ৬৬ দিনের লকডাউন শেষ। তবে এখনো দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। কোনো কোনো স্থানে এখনো চলছে লকডাউন। অধিকাংশ অফিস চলছে সীমিতসংখ্যক লোক দিয়ে। হোটেল-রেস্টুরেন্টে এখনো কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার খেতে যাচ্ছে না। ব্যাংকপাড়া, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন বা লঞ্চঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় নেই বহুদিন। এতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে পথশিশুরা। কারণ পথে চলা এসব সচ্ছল মানুষ ছিল তাদের রুজি-রুটির প্রধান অবলম্বন। এই মানুষদের কাছে নানা জিনিস ফেরি করে আয় করতো এই পথশিশুরা। কখনো কখনো হোটেল-রেস্টুরেন্টের উচ্ছিষ্ট খাবারের একটি অংশ খেয়ে জীবন ধারণ করত এরা। স্টেশনে বা লঞ্চঘাটে কুলি-মজুরের কাজ বা ফেরি করে কিছুটা আয় হতো। অথবা শপিংমল, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সচ্ছল মানুষদের দান-দক্ষিণায় চলে যেত এদের দিন। কিন্তু এখন নেই হোটেল-রেস্টুরেন্টের রমরমা ব্যবসা। শপিংমলেও নেই ক্রেতাদের ভিড়। পথে আগের মতো নেই সচ্ছল মানুষের ব্যাপক চলাফেরা। তাই এই পথশিশুদের মেলে না ছোটখাটো কোনো কাজ, ফেরি করে কোন জিনিস বিক্রির সুযোগও কমে গেছে। গাড়ির কাছে গেলে করোনার ভয়ে কেউ নামায় না গ্লাস। পথে হাঁটা অধিকাংশ সচ্ছল ব্যক্তিও এখন আর তাদের দান করে না। কাছে গেলেই তাড়িয়ে দেয়। ফেলে দেয়া জিনিসপত্র এখন আগের মতো পাওয়া যায় না।

সরকারি হিসাব মতে, ছিন্নমূল বা ভবঘুরে মানুষের সংখ্যা আড়াই লাখের কিছু কম। ২০১৫ সালে ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখ। এর মধ্যে আড়াই লাখের বেশিই ছিল রাজধানীতে। এত শিশুর এভাবে খেয়ে না খেয়ে বিনিদ্র রাত্রিযাপন আক্ষরিক অর্থেই বেদনাদায়ক।

করেনাকালে পথশিশুদের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের যতটা দায়িত্বশীল মানবিক হওয়ার কথা ছিল; তা হতে পারেনি। এমনিতেই এসব শিশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে; তার ওপর করোনার কারণে এখন তারা খেয়ে না খেয়ে থাকছে। এটা তাদের স্বাস্থ্য ও বেড়ে ওঠায় ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে। এদের অনেকে খাবার না পেয়ে ছোটখাটো অপরাধে যুক্ত হয়ে যেতে পারে। এমনটি হতে থাকলে এটা সুষ্ঠু সমাজ গঠনেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এ দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় এদের নিয়ে এই মহামারীকালে তেমন কোনো কাজ করছে না। এমনকি বেসরকারি সংগঠনগুলোও অনেক বেশি এগিয়ে আসছে না। বিষয়টি দুঃখজনক। কয়েকটি জোনে ভাগ করে পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের তালিকা করা যেতে পারে। সেই তালিকা ধরে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার এদের সাহায্য করতে পারে। এক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও এগিয়ে আসতে পারে। আমরা আশা করবো, বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হবে। পথশিশুদের আশ্রয়স্থলে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব প্রদান করা উচিত। এসব শিশুর মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হতে হবে।