• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

করোনা-উত্তর পরিস্থিতি মোকাবিলার স্বার্থে অভ্যন্তরীণ গবেষণা কাঠামো সমৃদ্ধ করুন

| ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২০

বাংলাদেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে একটি সুচিন্তিত, ব্যাপক ও কৌশলসমৃদ্ধ উদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গবেষণা কাঠামো উন্নত করতে হবে। কোভিড-১৯ উত্তর পরিস্থিতিতে গবেষণা খাত অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। ‘কোভিড-১৯, পরিকল্পনা এবং কোভিড-উত্তর কর্মকাণ্ড’ শীর্ষক ভার্চুয়াল লাইভ আলোচনায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। এর আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ বাংলাদেশ (সিপিআর)। গত শুক্রবার রাতে এ সভা হয়।

গবেষকদের বক্তব্যের সঙ্গে আমরাও একমত পোষণ করি। আমরা মনে করি, করোনা-পরবর্তী বিশ্ব সম্পূর্ণ অন্য রকমের হবে এবং সেই প্রেক্ষাপটে পথ চলার ক্ষেত্রে মেধাসম্পদভিত্তিক গবেষণার কোন বিকল্প নেই। কাজেই শুধু করোনাভাইরাসের চিকিৎসার ক্ষেত্রেই অভ্যন্তরীণ গবেষণা কাঠামো সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এ প্রেক্ষাপটে ন্যায়সঙ্গত একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই নীতি কাঠামোর মৌল ভিত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

পুরো বিশ্বই এখন করোনাযুদ্ধে লিপ্ত। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে হিমশিম খাওয়া রাষ্ট্রগুলোর সামনে আরও আছে বিপর্যস্ত অর্থনীতি। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বাস্তবতার নিরিখে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। করোনায় তছনছ হয়ে যাওয়া অর্থনীতি ফিরবে তো আগের অবস্থায়? কর্মহীন বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হবে তো? স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিতে কোনো উন্নতি হবে কি? যদিও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এরই মধ্যে লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। তবু দেশজুড়ে ক্ষুধার্ত ও কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। করোনার পরে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সামাজিক খাতে যে বিস্তর পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে হবে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার পথ খুঁজতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতে বিশেষ নজর দিতে হবে। এবং সরকারকে এখন থেকেই একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। করোনার দুর্যোগকালীন সময়েই কিছু কিছু কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

স্বাস্থ্য সংকটের দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক ইত্যাদিকে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কাজ করতে হবে এবং সমস্যাগুলোর সমাধান করার উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের হটস্পটগুলোর দিকে কড়া নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। দ্রুত অ্যান্টিবডি টেস্টিং এবং প্লাজমা থেরাপির ব্যবস্থা যত সম্ভব তাড়াতাড়ি চালু করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৪ বা ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। তিনি অভ্যন্তরীণ গবেষণার প্রয়োজনীয়তা এবং গবেষণা কাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া দরকার।

বর্তমানে ডেইরি খামারি, মৎস্য খামারি, পোলট্রি খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, এটা অশনিসংকেত! একজন উদ্যোক্তা কমে যাওয়া মানে, দেশের উৎপাদিত পণ্য কমে যাওয়া। উৎপাদনকারীদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে হবে দেশের স্বার্থে, নিজেদের স্বার্থে। কারণ, উৎপাদনের চাকা সচল থাকলেই শুধু সামনের খাদ্য সংকট থেকে মুক্তি মিলবে।

অর্থনৈতিক ধস, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের কর্মহীনতার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য একটি বিরাট অঙ্কের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হবে। রাষ্ট্র দ্রুততম সময়ে এ প্রয়োজন উপলব্ধি করে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সাধারণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হবে। জনসাধারণ ধরে নেবে যে সরকার তাদের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করছে। তাই, করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে সরকার ও রাষ্ট্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতিতে শিল্প ও বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব এবং সম্ভাব্য শিল্প খাতগুলো বন্ধ হওয়ায় আগামী অর্থবছরের সরকারের রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে গবেষণা ও উন্নয়ন শিল্প খাত হতে পারে নতুন এক চালনশক্তি, যা আন্তর্জাতিক বাজারে গবেষণাশিল্পের চাহিদা মেটাতে পারে। সুতরাং গবেষণা ও উন্নয়নশিল্প খাতই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সরকারের আগামী অর্থবছরের ঘাটতি মেটাতে পারে।

করোনা পরবর্তী সময় প্রচলিত অনেক নিয়ম-কানুন বদলাতে হবে। শ্রমিকদের অসুস্থতার ছুটি মঞ্জুর করতে হবে, বিদ্যুৎ বা পানির বিল বকেয়া থাকলে চট করে লাইন কেটে দেয়া হবে না। ব্যাংক ঋণের সুদের জন্য জামানত বাজেয়াপ্ত করার বদলে সময় দিতে হবে। ঋণ গ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট সুযোগও দিতে হবে। এটা এমন নয় যে, সাময়িকভাবে সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে চলমান সমস্যা থেকে মুক্তির পথ খোঁজা হবে, বরং সংকট পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য এ নতুন নিয়মগুলো স্থায়ী হিসেবে গণ্য হতে পারে।