• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

করোনা পরীক্ষায় পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করুন

| ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০

করোনা পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। অনেকে চেষ্টা করেও করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করাতে পারছেন না। যারা পরীক্ষা করিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ ফলাফল জানতে পারছেন না। কয়েকটি ল্যাবরেটরিতে সংগ্রহ করা নমুনার স্তূপ বড় হচ্ছে। নমুনার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অর্থাৎ নমুনা সংগ্রহ, নমুনা পাত্রজাত করা এবং নমুনা পাঠানোর ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকছে। সরকারি কর্মকর্তা, ভুক্তভোগী মানুষ এবং ল্যাবরেটরি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে করোনা পরীক্ষা নিয়ে এমন জটিলতার চিত্র পাওয়া গেছে।

করোনা পরীক্ষা-সংক্রান্ত দুরবস্থার চিত্রটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় করোনার পরীক্ষা নিয়ে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ঘোষণার আগে থেকেই রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যাপারে জোর দিয়ে আসছে। সংস্থাটি বলছে, চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধে রোগ শনাক্ত হওয়া দরকার। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমস্যার বিশালতা অনুধাবন করতে পারেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেরিতে পরীক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি এবং নমুনার মানের ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যথাযথ প্রদক্ষেপ নিতে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছেন। ব্যর্থতার তালিকাগুলো ক্রমান্বয়ে দীর্ঘ হচ্ছে। আর যে কারণে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা ছিল, সরকারের তরফ থেকে যে উদ্যোগগুলো ছিল- তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুরু থেকে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে নিজেদের একটি উজ্জীবিত মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম থেকে আশু পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোন সুস্পষ্টতা ছিল না। তাদের পরিকল্পনার মধ্যে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। শুরু থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল। বিদেশ থেকে যখন লোকজন আসা শুরু করল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেনি। এরপর করোনার চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মোটামুটি সমন্বয়হীন এবং একটি অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। একদিকে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর কথা বলা হলেও সেগুলো প্রস্তুত না থাকা, আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশনসহ উপকরণের স্বল্পতা এবং দীর্ঘ দুইমাস পর পর সেই উপকরণগুলোর ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, চিকিৎসকদের উজ্জীবিত করতে না পারা, চিকিৎসকদের পিপিই অর্থাৎ চিকিৎসা সরঞ্জাম না দেয়া- এই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এখনও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই করোনা মোকাবিলায় নেতৃত্ব দানকারী মন্ত্রণালয় হিসেবে সামনে দাঁড়াতে পারেনি। বরং তাদের প্রতিদিনের কর্মকা-ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, মহামারী বিদায় নিতে এখনও অনেক সময় বাকি। অথচ দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে কোন ভ্রক্ষেপ নেই, কোন রকম মাথাব্যথা নেই। এখনই যদি মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন না করা হয়, মন্ত্রণালয়ে কাজের গতি বাড়ানো না হয়, মন্ত্রণালয় যদি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য মাফিক কাজ না করে এবং করোনা পরীক্ষা-সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনাগুলো দূর করা না হয় তাহলে এই পরিস্থিতি লাগামহীন হবে। করোনা নিয়ে সামগ্রিক অবস্থা একটি লেজে-গোবরে পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা পরিচালনা, ফল জানানো এবং শনাক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হবে। এবং সে মাফিক কর্মপ্রক্রিয়া সম্পাদন করতে হবে। নমুনা সংগ্রহ করা জানতে হবে, সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। এসব কাজে আরও সজাগ হতে হবে। যারা এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করছেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি ল্যাবরেটরি হতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান অনুযায়ী। তা না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে, পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।