• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যারা নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও রোজার মাসে নিত্যপণ্য নিয়ে অতি মুনাফার কারসাজি শুরু হয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে দুই মাস ধরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে পণ্যের দাম। চাল থেকে শুরু করে ডাল, ভোজ্যতেল, পিয়াজ, মরিচ, আদা-রসুন, চিনি এমনকি রমজানে অতি ব্যবহৃত ছোলা ও খেজুরের দাম বেড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শ্রমিক, দিনমজুর, হকার, রিকশাচালকসহ নিত্য আয়ের মানুষের উপার্জন বন্ধ। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত প্রায় ৬ কোটি মানুষ বিপাকে রয়েছে। অসহায় হয়ে পড়া এসব মানুষ পরিবারের ভরণপোষণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এমতাবস্থায় দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে ভোক্তা সাধারণের নাভিশ্বাস পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

করোনায় মানুষকে জিম্মি করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানো অমানবিক। একই সঙ্গে বিষয়টি অনৈতিক ও মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে বাধা দেয়ার শামিল। এমন অপতৎপরতা রাষ্ট্রকে জিম্মি করার সমতুল্য। মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চরম অব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে অরাজক অবস্থা বিরাজ করছে। বাজারগুলোতে কোন পণ্যই নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। অধিকাংশ বাজারে দামের কোন তালিকাও নেই। সেই সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। আর এও বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উল্লিখিত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্র ও জনগণকে জিম্মি করার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুঃখজনক হলো, তাদের বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, কারসাজির হোতাদের খুঁজে বের করা হয়নি। মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় সরকারের একাধিক আইন রয়েছে। সিন্ডিকেটের কারসাজিকারীরাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ফলে তারা রাষ্ট্রের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনৈতিক মুনাফা অর্জন অব্যাহত রাখছে।

মানুষ যেন প্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারে সেজন্য নিত্যপণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া সরকারের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে যারা মূল্য বাড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে অন্যরাও এ অনৈতিকতায় উৎসাহিত হতে পারে এবং রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

কৃত্রিম উপায়ে কোন পণ্যের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চলমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু পণ্য পরিবহন এবং আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাসে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সব পণ্যের সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গঠিত টাস্কফোর্স এবং বিভিন্ন কমিটিকে আরও তৎপর হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারকে দেখতে হবে, বড় গ্রুপগুলো বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ করছে কি না। আইনের আওতায় এতে সরকারকে মনিটরিং করতে হবে। বেসরকারি খাতের রোল কতটা প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে, তা সরকারের দেখার একটা রোল আছে। সে দায়িত্বগুলো যথার্থভাবে পালন করতে হবে। মজুতদারির সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। করোনার মতো দুর্যোগে যারা অনৈতিকভাবে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ব্যাপারে কোনরকম ছাড় দেয়া যাবে না।