• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০

কবরস্থান বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ লুটপাটের আরেক কৌশল

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

কবরস্থান, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার জমিসহ খাস জমি বন্ধক রেখে রাজ হাউজিং লিমিটেড নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংক। আরএস খতিয়ান অনুযায়ী এর পুরোটাই ব্রহ্মপুত্র নদের চালা ও শিকস্তি (নদীতে ভেঙে যাওয়া জমি) যা নৌকা চলাচল ও সর্বসাধারণের ব্যবহার্য। বিষয়টি স্বীকার করেছে রাজ হাউজিং লিমিটেড কর্তৃপক্ষও। আবাসন প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দেলোয়ার হোসেন বলেন, জমিগুলো আমরা তৃতীয় পক্ষের (দালাল) মাধ্যমে কিনেছিলাম। তাই পুরো জমির কাগজপত্র সেভাবে দেখে নেয়া সম্ভব হয়নি। ব্যাংকে কাগজপত্র জমা দেয়ার পর আমরা জানতে পেরেছি, সেখানে নদী ও কবরস্থানের জায়গা রয়েছে। যদিও ব্যাংকের দাবি, নিজস্ব আইনজীবী এবং রেজিস্ট্রি অফিস থেকে যাচাই করে ও দলিল তৈরির পরই তারা ঋণ অনুমোদন দিয়েছে।

অথচ সরকারি খাস জমি, শিকস্তিÍ, কবরস্থান, মসজিদসহ ধর্মীয় কোন ভূমি জামানত হিসেবে নেয়ার বিধান নেই। অথচ উল্লিখিত ঘটনায় দেখা গেল যে প্রতিষ্ঠান ঋণ দেবে সেই যেচে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিপুল অংকের ঋণ দিচ্ছে।

একটি ঋণ প্রস্তাব গ্রহণ থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত ব্যাংকের একাধিক স্তর সম্পৃক্ত থাকে। যে কোন ঋণের জামানতের সম্পদ বিষয়ে ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবীদের মতামত নেয়া হয়। জামানতের সম্পত্তিতে কোন সমস্যা থাকলে সেটি আইনজীবীরা চিহ্নিত করে নিজেদের মতামত দেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আইনজীবীরা রহস্যজনক কারণে কোন সমস্যা দেখেননি। এক্ষেত্রে স্থানীয় ভূমি অফিসের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ আছে, আবাসন প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে রেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশে এ প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। নিয়ম লঙ্ঘন করে রাজ হাউজিং লিমিটেডকে বিপুল অংকের এ ঋণ দেয়া হলেও আবাসন খাতের অখ্যাত প্রতিষ্ঠানটির কোন অবকাঠামো দেখা যায়নি। অর্থাৎ বিষয়টি যে আক্ষরিক অর্থেই গুরুতর অনিয়ম এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এভাবেও বলা যায় যে, ঋণের অর্থ ফেরত না আনার জন্যই হয়তো জেনেবুঝে কাজটি করা। অর্থাৎ ব্যাংক খাতে ধারাবাহিক লুটপাটের এটি একটি নবতর সংস্করণ।

উল্লিখিত ঘটনায় আইএফআইসি ব্যাংকের যে অনিয়ম স্পষ্ট হলো, যত দ্রুত সম্ভব তার কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাকিং খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ করার স্বার্থে এসব বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। অনিয়মকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যে ঋণ দেয়া হয়েছে তা যেন যথাসময়ে ফেরত আসে সে ব্যাপারেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। ব্যাংকগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো দরকার। ঋণ প্রদান, পাওনা আদায়, সুদ আরোপ, গ্রাহকের শর্ত পালন না করা ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংকিং খাতকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ফৌজদারি এবং অর্থ ঋণ মামলা যথাযথভাবে তদারকি ও নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুসরণ করতে হবে। খেলাপি ঋণসহ অন্য যেসব অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে এগুলোর রাশ টেনে ধরতে হবে।