• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১

ওয়াসার বিশুদ্ধ পানি খেতে হলে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ থেকে সব ক্ষেত্রেই সংস্কার জরুরি

| ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

বাসস্থানে ব্যবহারের জন্য ওয়াসাকে নির্দিষ্ট হারে পানির দাম দিতে হচ্ছে। এরপরও বিশুদ্ধ পানির জন্য বাসায় ফিল্টার বসাতে হচ্ছে। অফিসে পানির জার কিনতে হচ্ছে। বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। জনসমাগমের স্থলে উন্মুক্ত ট্যাপে পানির ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। ফলে কিনতে হয় বোতল বা জারের পানি। আধা লিটার বোতলের পানি কিনতে খরচ হচ্ছে ১৫ টাকা। রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষ ফুটপাতের দোকানের জারের পানি খায়। প্রতি গ্লাসের জন্য দিতে হয় এক টাকা। এখন অনেক জায়গায় দুই টাকাও নেয়া হচ্ছে; যদিও এসব পানির মান নিশ্চিত নয়। অর্থাৎ এখন অন্য ১০টা পণ্যের মতো পানিও বিক্রি হয় দাম ধরে। ওয়াসার প্রতি অনাস্থায় খরচ বাড়ছে পানির, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়।

ওয়াসার পানির প্রতি অবিশ্বাস আর ভীতিকে পুঁজি করেই দিনে দিনে জমে উঠেছে পানি বাণিজ্য। অথচ পানি বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি সেবা। রাষ্ট্রকেই সাধারণ মানুষের জন্য এ সেবা নিশ্চিত করতে হয়। ওয়াসার পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয়, যে সব পাম্প থেকে পানি উত্তোলন করা হয়, সেই পানি সুপেয়। ঝামেলা যা কিছু হয়, পানি সরবরাহের সময়। পাম্প থেকে যে পাইপ দিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পানি পৌঁছে দেয়া হয়, সেই পাইপগুলো নানা কারণে মাঝেমধ্যে ফেটে যায়, তাতে ছিদ্র হয়, আর তাতেই দূষিত হয় পানি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পাইপগুলোর মালিক কে? ওয়াসাই তো? তাহলে ওয়াসা কেন পাইপগুলো মেরামত করে না?

ঢাকা মহানগরীর মানুষকে মানসম্মত পানি সরবরাহ করার জন্য বিগত বছরগুলোতে ওয়াসা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। ওয়াসার পানির গুণগতমান নিয়মিতভাবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পরীক্ষা করার জন্য ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবরেটরি মোহাম্মদপুরের আসাদগেটে চালু আছে। এই ল্যাব ব্যবস্থাপনায় মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়। কিন্তু ওয়াসার পানির গুণগতমান মনিটরিং ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর, তা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ও মানুষের ক্ষোভেই উপলব্ধি করা যায়। অভিযোগ রয়েছে, শতভাগ পরিশোধন না করেই নগরবাসীকে দূষিত পানি খাওয়াচ্ছে ওয়াসা। যার ফলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ময়লাসহ দুর্গন্ধযুক্ত পানি খাচ্ছেন নগরবাসী। পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব হয় দুর্গন্ধযুক্ত এসব অনিরাপদ পানি থেকেই।

ওয়াসার লাইনের পানিকে শতভাগ সুপেয় দাবি করে রাজধানীবাসীর কাছে আলোচিত-সমালোচিত প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ওয়াসার এমডির পদেই আছেন প্রায় দশ বছর। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর এই প্রতিষ্ঠানের এমডির পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আর এই পদ ছাড়েননি তিনি। অথচ নগরের বেশিরভাগ স্থানেই ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি যে দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত ওয়াসার এমডি সে খবর রাখেন না কিংবা রাখার কোন প্রয়োজন বোধ করেন না। পানি ময়লাযুক্ত হলে কিংবা এ পানি পান করে কারও মৃত্যু হলেও রহস্যজনক কারণে তিনিই যে স্বপদে বহাল থাকবেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেয়া হবে না এ নিশ্চয়তা হয়ত তার আছে।

পানি সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকতে পারে এটা স্বীকার করে নিয়ে তার সমাধানের জন্য কাজ করাই যেখানে প্রধান কাজ সেখানে দোষ ঢেকে রাখার মানে হচ্ছে এখানে আর নতুন কোনো কাজ না হওয়া, অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া। বিষয়গুলো নতুনভাবে ভাবার সময় এখন। ওয়াসার সরবরাহ করা পানির নিম্নমানের কারণে বিশুদ্ধ পানির জন্য জনগণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব নিয়ে দেখতে হবে। পানির ব্যবস্থাপনায় কোথায় কোথায় ত্রুটি আছে সেগুলো বের করার জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অন্যান্য দেশের ব্যবস্থাগুলো নিয়ে গবেষণা করা। প্রয়োজন পানির ব্যবহার সীমিত করা। বৃষ্টির পানি বৃহৎ আকারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা। আমরা চাই ওয়াসার সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি-অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হোক। ওয়াসা নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করুক। উন্নত বাংলাদেশে ওয়াসার টেপের পানিই হোক নিরাপদ পানীয়।