• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

নাটোরে ইউএনও সরকারি নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে জনসমাগম করলেন হাটের ডাকে

এ কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না কেন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০

নাটোরের সিংড়ায় জনসমাগম করে হাটের ডাক দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার বিলদহর হাট চার দিনের জন্য ডাক দেয়া হয়। এর আগে বেলা ২টায় বিলদহরের দুটি মসজিদের মাইক দিয়ে ঘোষণা দেয়া হয়। করোনাভাইরাসের কারণে সরকারিভাবে লোকসমাগম নিষেধ থাকলেও স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস শত শত লোক জমায়েত করে হাটের ডাকে যোগ দেয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু জানান, হাটের ডাক নিম্ন হওয়ায় সরকার লোকসানে পড়তে পারে বিধায় হাটের খাস কালেকশন শুরু করার লক্ষ্যে ডাক দেয়া হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব চলাকালে কেন শত শত লোক জমায়েত করা হলো কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি বাধ্য নন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সংক্রমণ রোধে শুধু দেশেই নয়, গোটা বিশ্বে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হচ্ছে। কেউ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। অথচ নাটোরে হাট ইজারার জন্য শত শত লোকের জনসমাগম ঘটানো হলো। সেটি করা হলো সরকারি ব্যবস্থাপনায়, খোদ ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে। তিনি বললেন, হাটের ডাকের জন্য সরকার লোকসানে পড়তে পারে এবং সেজন্য ডাকের মাধ্যমে স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলামকে ২৩ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হলো। অর্থাৎ যখন গোটা বিশ্ব লকডাউনে এবং যখন বাংলাদেশের সমস্ত জরুরি কাজ, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে আছে করোনার বিস্তাররোধে তখন নাটোরে সরকারের ২৩ হাজার টাকার লোকসান বাঁচাতে জনসমাগম করতেই হল। এ ‘মহৎ কর্ম’টির মাধ্যমে নাটোর এলাকায় তো বটেই গোটা দেশের সব মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলা হলো। এবং এরপরও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও জোর গলায় বললেন, তিনি জবাব দিতে বাধ্য নন।

আমরা জানতে চাই, যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি বাধ্য নন কেন? তিনি কি রাষ্ট্রের কর্মচারী নন? সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মেনে চলা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা কি তার দায়িত্বের আওতায় পড়ে না? তিনি কি সব জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে? আমরা বিস্মিত হলাম জেনে যে, একজন ইউইনও জননিরাপত্তার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছেন না এবং হাস্যকর যুক্তি দেখিয়ে অনৈতিক কাজকে নিঃসংকোচে জায়েজ ঘোষণা করছেন। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে কোন যুক্তিতে ঘরে থাকার কথাটি বলা যাবে সেটা নিয়েও ভাবতে হবে।

মাত্র ২৩ হাজার টাকার জন্য হাটের বন্দোবস্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের শ্রীবৃদ্ধি নয় সেটা নির্বোধও বোঝে। অর্থাৎ ব্যক্তি কিংবা কোন বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থেই যে অপকর্মটি হয়েছে- এটা স্পষ্ট। আমরা জনপ্রশাসনের কাছে দাবি তুলছি, অতি দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়িত্বরত ইউএনওকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক। এ ধরনের অসৎ চিন্তা লালনকারী কর্মকর্তা কখনই রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য হিতকর নয়। তদন্ত সাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।