• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

উপসর্গ ছাড়াই করোনা আক্রান্তের খবরটি আশঙ্কাজনক

| ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন চিকিৎসক, একজন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা ও একজন টিকাদান কর্মীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে তাদের শরীরে কোন ধরনের উপসর্গ নেই। লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শরীফ সাহাবুর রহমান গত বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গতকাল সকালে চিকিৎসক ও কর্মী মিলিয়ে আটজনের নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পাঠানো হয়। আজ ভোরে সেখান থেকে ওই পাঁচজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগের বিষয় হলো তাদের কারও শরীরে কোন উপসর্গ বা লক্ষণ ছিল না, এখনও নেই। তাই মনে হচ্ছে এ উপজেলায় সামাজিক সংক্রামণ শুরু হয়েছে। কিন্তু লক্ষণ না থাকায় বোঝা যাচ্ছে না।’

উপসর্গ ছাড়াই করোনা আক্রান্তের খবরটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে এ খবর শুধু নড়াইলেই নয়, রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও পাওয়া গেছে। সাধারণত করোনা আক্রান্ত হলে রোগীর শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। লক্ষণ বিবেচনা করেই তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং পরীক্ষার পর তাকে করোনা আক্রান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কোন ধরনের উপসর্গ ছাড়া সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষের শরীরেও করোনা ভাইরাস বাসা বাঁধতে জানে। এবং সেটা আরও বেশি ভয়ানক এজন্য যে, একজন সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষ করোনাভাইরাসের জীবাণু বহন করে দিব্যি তা তার পরিবারের সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

ব্লুমবার্গে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরে শামান গবেষণায় দেখিয়েছেন, প্রকোপ শুরু হওয়ার আগেই ৮৬ শতাংশ মানুষের মধ্যে মৃদু উপসর্গ বা উপসর্গহীন সংক্রমিতরা এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেবেন। তার গবেষণাপত্রে সতর্ক করা হয়েছে এমন নীরব সংক্রামকদের ব্যাপারে। তিনি ওই গবেষণায় বলেছেন, এমন অনেক সংক্রমিত রয়েছেন যাদের কোন উপসর্গ নেই। আবার, এমনও পেয়েছেন যাদের সব উপসর্গ আছে কিন্তু সংক্রমণ নেই। কেউ সংক্রমিত হলে তার শরীরে লক্ষণ দেখা দিতে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তি অনেক মানুষকে সংক্রমিত করে ফেলার আশঙ্কা আছে। এক অর্থে সবাই সংক্রমিত। তাই শুধু সংক্রমিতদের ঘরে রাখলে চলবে না। সবাইকে ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে হবে।

যত বেশি পরীক্ষা করা যাবে ততই সেটা গোটা দেশের জন্য ভালো। সে লক্ষ্যে সমন্বিত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। সম্ভব হলে প্রায় সবার করোনা পরীক্ষা করা উচিত। সরকারি পর্যায়ে যদি এখনই সে সামর্থ্য না থাকে তাহলে সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। এক্ষেত্রে কোনরকম গাফিলতি কাম্য নয়।

কিছু কিছু কারখানায় শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর একটি খবর জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। এটি সার্বিক ভাবেই একটি বিপজ্জনক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ যারা লকডাউন ছেড়ে কাজে ফিরবে তাদের কারও কারও শরীরে কোনরকম উপসর্গ না থাকলেও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে এবং তা দ্রুত অন্য শ্রমিকের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কাজেই এ হঠকারী প্রচেষ্টা থেকে অবিলম্বে সরে আসতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে, শনাক্ত যে রকম বাড়বে তেমনি আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসবে। সে সঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই যে সবার মৃত্যু ঘটবে না, সেই তথ্যটিও মানুষের মধ্যে পৌঁছতে হবে। মানুষকে সতর্ক রাখার জন্য ঘরে থাকতে বলার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে থেকে মৃত্যুর উৎকণ্ঠাও কমানো উচিত। নয়তো আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগতে থাকা অনেকে মৃত্যু চিন্তায় আরও বেশি অসুস্থ বোধ করতে পারেন।