• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার অপরিহার্য

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য মতপ্রকাশের ও নাগরিক স্বাধীনতা জরুরি। মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন- এগুলো একসূত্রে গাঁথা। এর একটা ছাড়া অন্যটা অর্জন সম্ভব নয়। গত রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ ও মানবাধিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় একথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন।

আমরাও মনে করি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং উন্নয়ন একে অন্যের পরিপূরক। এর কোন একটির অনুপস্থিতিতে উন্নয়ন কখনোই টেকসই হয় না।

দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলেই প্রতিষ্ঠিত হয় সুশাসন। অন্যভাবে বলা যায়, যে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্য প্রবাহ, জনগণের উন্নত সেবা প্রাপ্তি, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে সেটাই সুশাসন। সুশাসনের মাধ্যমে জনগণ তাদের আশা-আকাক্সক্ষাকে প্রকাশ করতে পারে, অধিকার ভোগ করে এবং তাদের চাহিদা মেটাতে পারে। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক সাম্য, নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক সমাজ এবং স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পায়। সুশাসন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এবং সামাজিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে। আর এভাবেই ত্বরান্বিত হয়ে থাকে জাতীয় উন্নয়ন।

আবার মানবাধিকার ছাড়াও উন্নয়ন পরিপূর্ণতা পায় না। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষায় ঘাটতি এবং নাগরিক সমাজের মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হলে মানবাধিকার সুরক্ষা করা যায় না। বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার তাগিদ থেকে। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। সুতরাং বাংলাদেশে মানবাধিকারের ওপরে আর কোন কিছুর অবস্থান হতে পারে না। বাংলাদেশে কোন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড হতে পারে না। জাহালমের ঘটনার মতো কোন ঘটনা এ দেশে ঘটা উচিত নয়, যে বহু বছর জেল খাটার পর নির্দোষ হিসেবে ছাড়া পায়।

একই কথা গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ গণতন্ত্র ছাড়াও উন্নয়ন টেকসই হয় না। পঞ্চাশের দশকে যখন সামরিক শাসক আইয়ুব খান এসেছিল, একটা কথা তখন প্রায়ই বলা হতো যে, উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র একটি বাধা। কিন্তু আমরা মনে করি, কথাটা ভুল। টেকসই উন্নয়ন করতে চাইলে সেটার জন্য একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অপরিহার্য এবং জরুরি।

আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, যে বাংলাদেশ হবে মানবাধিকারের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি সভ্য রাষ্ট্র। আর সেটা শুধু নাগরিক-রাজনৈতিক অধিকারে নয়, অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকারে সমৃদ্ধ। এসব অধিকার সমান গুরুত্ব যেন বহন করে আর রাষ্ট্র সেগুলো নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করে, সেজন্য যা যা পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তা অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিতে হবে। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন একটা পরিবেশ যেন দৃশ্যমান হয়, যাতে করে আমরা বুঝতে পারি, মানবাধিকার পরিস্থিতির যে অগ্রগতি হচ্ছে তা এক সময় সব নাগরিকের সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে।

  • অমানবিক !

    সন্তানসম্ভবা হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও হোসনে আরা বেগমকে ওএসডি করেছে