• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

ইয়াবা বাণিজ্য বন্ধ হলো না আত্মসমর্পণ প্রহসনই হলো

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

দক্ষিণাঞ্চলে নৌপথে ইয়াবা চোরাচালান হচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ইয়াবার বড় কয়েকটি চালান ধরা পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্র ও নদীপথের একাধিক রুট ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা ইয়াবা পাচার করছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মূলত স্থলপথে নজরদারি বাড়ানোর কারণে ইয়াবা কারবারিরা নৌপথকে বেছে নিয়েছে। তবে স্থলপথেও নতুন নতুন রুট ব্যবহার করে ইয়াবা ঢুকছে দেশে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও সিলেটের জকিগঞ্জসহ বিভিন্ন পথে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে আকাশ পথেও ইয়াবা আনা-নেয়া করা হয়।

ইয়াবা পাচারে কেবল রুটই বদলায়নি পাচারকারিরা, মাদক বাণিজ্যের কৌশলও বদলেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যুক্ত হয়েছে ইয়াবা বাণিজ্যে। নতুন করে ইয়াবা বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছে বহু মানুষ। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে। ইয়াবা বাণিজ্যের অবিযোগে বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। সরকার ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু ইয়াবা বাণিজ্য চলছে আগের মতোই। মাদক প্রশ্নে নেয়া সরকারের প্রতিটি পদেক্ষেপ কেবল বিতর্কিতই হয়নি, চরমভাবে ব্যর্থও হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে বিতর্কিত উপায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে মাদক অভিযান নিয়ে শুধু বিতর্কই হয়েছে মাদক আর নিয়ন্ত্রিত হয়নি।

সরকারের ব্যর্থতায় মাদকমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ইয়াবা বাণিজ্যে যেখানে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণই প্রতিষ্ঠা করা যায়নি, সেখানে মাদকবিহীন সমাজ গড়ার চিন্তা করা যায় না। প্রশ্ন হচ্ছে, মাদকবিরোধী অভিযানে সরকার ব্যর্থ হলো কেন? এর উত্তর কারও অজানা নয়। মাদক কারবারিদের চিহ্নিত গডফাদারদেরকেই সরকার ধরেনি। গত সরকার আমলে কোন কোন সংসদ সদস্য মাদক কারবারিদের তালিকায় শীর্ষে স্থান পেয়েছিল। চিহ্নিত কোন কোন গডফাদারের স্বজনদের এবারও সংসদে ঠাঁই দেয়া হয়েছে। এর বিপরীতে মাদকসেবী বা মাদকের খুচরা কারবারিদের এমনকি নিরীহ মানুষকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে। আমরা তখনই বলেছিলাম গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে অভিযান ব্যর্থ হবে। কিন্তু সরকার কখনই সে কথা আমলে নেয়নি। বরং আত্মসমপর্ণের নামে মাদক কারবারিদের পুনর্বাসিত করা হয়েছে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে, ইয়াবা বাণিজ্য চলছে।

আমরা বলতে চাই, কার্যকরভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অবশ্যই গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। গডফাদারদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। এজন্য সবার আগে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আমরা চাই, সরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করুক। তবে বাস্তব অবস্থাÑ এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোন আশার জন্ম দেয় না।