• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ ১৪৪০

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসাইক্লিংয়ে পরিকল্পিত ও স্থায়ী উদ্যোগ নিন

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ইলেকট্রনিক বা ই-বর্জ্যরে পরিমাণও। এসব ই-বর্জ্যরে দূষণ থেকে প্রাণ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে প্রয়োজন পড়ে রিসাইক্লিংয়ের বা তা পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলার। দেশে এসব ই-বর্জ্যরে রিসাইক্লিং হচ্ছে স্বল্পমাত্রায়। আবার যেটুকু হচ্ছে সেখানেও ব্যবহার হচ্ছে না কোনো ধরনের সুরক্ষা উপকরণ। ফলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন ই-বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, কোনো ধরনের সুরক্ষা উপকরণ ছাড়াই কাজ করার কারণে ক্যান্সার, যক্ষ্মাসহ কিডনি ও শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন দেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ই-বর্জ্য শ্রমিকরা।

ই-বর্জ্যরে ধারণাটি নতুন। ফলে এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষ অবগত নয়। ই-বর্জ্য ধারণ করে বিষাক্ত নানা উপাদান যেমন- সিসা, ফসফরাস, পারদ, ক্যাডমিয়াম, গ্যালিয়াম, আর্সেনাইট ইত্যাদি যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শরীরের স্বাভাবিক যে জৈবিক প্রক্রিয়া, তাতেও পরিবর্তন আনে এগুলো। বিশেষ করে লিভার ও কিডনির কার্যক্রম ব্যাহত করে। একই সঙ্গে কারও শরীরে যদি অনেক বেশি পরিমাণে ভারি ধাতু থাকে, তাহলে তার কিডনি ফেইলিওর হতে পারে। যারা এসব বর্জ্য নিয়ে কাজ করেন তাদের ঝুঁকিটা বেশি। এসব বর্জ্যে যে উপাদানগুলো রয়েছে, সেগুলো তাদের শরীরে প্রবেশ করে। তা থেকে অনেক ধরনের রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে।

বাস্তব কারণেই ই-পণ্যের ব্যবহার কমানো যাবে না। বরং দিনকে দিন বাড়বে। সঙ্গতকারণে বর্জ্যরে উৎপাদনও বাড়বে। যেহেতু ই-বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হানিকর, সুতরাং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। এ সংক্রান্ত নীতিমালাটি দ্রুত অনুমোদন ও কার্যকর হওয়া আবশ্যক। ই-বর্জ্য নিয়ে সমস্যা শুধু আমাদের দেশেই নয়, অন্যান্য দেশেও আছে। তারা কিভাবে এর সমাধান করছে, সেটা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। ই-বর্জ্য সংগ্রহের একটা সুনির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা থাকা খুবই দরকার। বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকরা ভারি ধাতুর সংস্পর্শে যেন না আসেন, সে ব্যাপারে যতœবান হতে হবে। শ্রমিকদের যথাযথ সুরক্ষা উপকরণ নিয়ে কাজ করা উচিত। কারখানার মালিকরা যাতে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাধ্য হন, সেজন্য আইন করে হলেও ব্যবস্থা নিতে হবে।