• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ১৮ শাবান ১৪৪০

গায়েব হওয়া কয়লা সিস্টেম লসের নামে দুর্নীতি

তদন্ত করে অপরাধীদের ধরতে পারে দুদক

| ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল) গায়েব হওয়া প্রায় দেড় লাখ টন কয়লাকে সিস্টেম লস হিসেবে দেখিয়েছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত কোম্পানির সাধারণ সভার বার্ষিক প্রতিবেদনে ‘কয়লা উৎপাদন, বিক্রয় ও মজুদ বিবরণী’ হিসেবে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। উক্ত সভার কার্যপত্রের অনুমোদন দিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন। গত বছর জুলাইয়ে উক্ত কোম্পানির গায়েব হওয়া কয়লাকে সিস্টেম লস হিসেবে দেখানো হয়েছিল। পেট্রোবাংলা তখন সেটা মেনে নেয়নি। এ নিয়ে গত রোববার একটি জাতীয় দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কয়লার অভাবে গত বছর জুলাইয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ২৩০ কোটি টাকা মূল্যের কয়লা গায়েব হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে সরকারি-বেসরকারি অন্তত চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কয়লা উধাওয়ের ঘটনা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেন। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেছিলেন, কয়লা নিয়ে বহুদিন ধরেই দুর্নীতি চলছে। পেট্রোবাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কয়লা গায়েবের দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাবেক সব এমডিকেই নিতে হবে। এখন কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে গায়েব হওয়া কয়লাকে সিস্টেম লস হিসেবে দেখানো এবং সভার কার্যপত্রে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের অনুমোদনে প্রশ্ন উঠেছে যে, সরকার কোম্পানির অবস্থানকেই মেনে নিচ্ছে কিনা।

কয়লা গায়েবের ঘটনাকে উক্ত কোম্পানি শুরু থেকেই সিস্টেম লস হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন সিস্টেম লসেই প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা হাওয়া হয়ে যাবে না। বোঝা যাচ্ছে, সিস্টেম লস দেখিয়ে সংশ্লিষ্টরা পার পেতে যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কয়লা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের পর্যায়ে একে সিস্টেম লস হিসেবে দেখানো যায় কিনা। দেড় লাখ টন কয়লা কী হয়েছে সেটা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসুক এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক সেটা আমাদের দাবি।

কয়লা দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল তার প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল ১৫ দিনের মধ্যে। আজ পর্যন্ত সেই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে দুদক নিজেই তার আইন লঙ্ঘন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় বড় দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের সক্ষমতা বা আগ্রহ নেই। ছোট দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়েই তারা মহাব্যস্ত। কোন শিক্ষক স্কুলে যাননি, কোন চিকিৎসক কর্মক্ষেত্রে নেই, কে উল্টোপথে গাড়ি চালালেন সেটা নিয়ে দুদক কর্মতৎপর। কিন্তু ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা বা শত কোটি টাকার কয়লা গায়েব হলে দুদককে রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে তৎপর হতে দেখা যায় না। দুদকের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়, চুরি যাওয়া কয়লা হয়ে যায় ‘সিস্টেম লস’। দুদকের গাফিলতিতে জেল খেটেছে নির্দোষ জাহালম। আমরা বলতে চাই, বাগাড়ম্বর বন্ধ করে দুদককে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতি দমনের নামে চুনোপুঁটিদের ধরে জনগণের আইওয়াশ করলে চলবে না। বড়পুকুরিয়া দুর্নীতির সুরাহা করতে হবে, ব্যাংক দুর্নীতির রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য নয় টঙ্গী

    মানুষের জন্য নিরাপদ করুন

    টঙ্গী শিল্প এলাকা ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পোশাক শ্রমিকসহ এ এলাকার খেটে