• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

শেয়ারবাজারে বড় ধস

কারসাজির হোতাদের খুঁজে বের করুন

| ঢাকা , শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শেয়ারবাজারে গত বুধবার আবার বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০১৬ সালের অবস্থানে ফিরে গেছে। এক দিনেই সূচকটি ৭৬ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে। গত প্রায় ৩৩ মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ডিএসইএক্স সূচকটি ৪ হাজার ৯২৪ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি কাল ২১৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমেছে।

বর্তমান বাজারে বড় ধরনের দরপতনের জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, কারসাজি, মানহীন কোম্পানির আইপিও, সুশাসনের ঘাটতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বাজারসংশ্লিষ্টদের দ্বন্দ্বই বড় কারণ। বাজারের বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে কেবলই লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতিদিনই কমছে শেয়ারের দাম আর বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পুঁজিবাজারে সুশাসনের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এখানে বারবার কারসাজির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কারসাজির হোতাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে না। বিচার করা হচ্ছে না। এ ধারা চলতে থাকলে শেয়ারবাজার আরও নাজুক হয়ে পড়বে। তখন শুধু সেকেন্ডারি বাজার নয়, প্লেসমেন্ট ও আইপিওতেও বিনিয়োগকারীদের দেখা মিলবে না। সেকেন্ডারি বাজারে কাক্সিক্ষত দর না পেলে কেউ এসব শেয়ার কিনবে না; ফলে সংকটও প্রকট হবে।

পুঁজিবাজারের স্বাস্থ্যের ওপর রাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধস নামলে অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও নেতিবাচক। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকারের তৎপর হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সেকেন্ডারি বাজারে ফিরিয়ে আনতে হবে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অযথা ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া বন্ধ করতে হবে। আইপিওর জন্য রিজার্ভ কোটা কিংবা বুক বিল্ডিংয়ের বিষয় নিয়ে বিএসইসি বেশি রদবদল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চেষ্টা না করাই ভালো।

পতন ঠেকানোর জন্য সর্বাগ্রে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, সংশ্লিষ্ট আর্থিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে সমন্বয় এবং শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সক্ষমতা অনিবার্য।

অনেক উদ্যোক্তা-পরিচালক আর্থিক হিসাবে গরমিল করে শেয়ারদর বাড়াতে কারসাজি করছেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হওয়ায় অন্যরাও অনিয়মে জড়াচ্ছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোভে পড়ে এসব শেয়ার কিনে প্রায়ই ঠকছেন। মাঝে মধ্যে নামমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলেও তা অপরাধের তুলনায় অপ্রতুল, যে কারণে কারসাজি থামছে না। অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।