• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

ফেনীতে আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা

এই বর্বরতার বিচার চাই

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে এক ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর দগ্ধ ওই ছাত্রীর নাম নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। গত শনিবার সকালে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলীম পরীক্ষা শুরুর আগে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, কিছুদিন আগে ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা। ওই মামলার জের ধরে অধ্যক্ষের অনুগত শিক্ষার্থীরা এ হামলা করেছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। দগ্ধ ছাত্রীকে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

সোনাগাজীতে যে বীভৎস ঘটনার খবর পাওয়া গেল তা রীতিমতো ভীতিপ্রদ এবং উদ্বেগজনক। কতটা পাশবিক এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ হলে পরীক্ষার হলে একজন শিক্ষার্থীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়, সেটা ভাবতেও আমাদের গা শিউরে ওঠে। প্রশ্ন হলো, কোন সভ্য সমাজে কোন ব্যক্তি বা তার অনুসারীরা এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পায় কী করে? এটা ঠিক যে, শ্লীলতাহানির অভিযোগের পর যদি দ্রুততম সময়ে বিষয়টির তদন্ত হতো এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হতো না। বিষয়টি হয়নি বলেই অভিযুক্ত ও তার অনুসারীরা অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ভয় দেখানোর সাহস পেয়েছে এবং সে সাহস ক্রমান্বয়ে দুঃসাহসে পরিণত হয়েছে। স্পষ্টতই বোঝা যায়, অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের জোরেই এসব ঘটছে।

কোন সভ্য সমাজে এমন অনাচার মেনে নেয়ার কোন যুক্তি নেই। আমরা মনে করি, সমাজ এবং রাষ্ট্র কোন প্রেক্ষাগৃহ নয় যে, সিনেমায় খলচরিত্রের লোকেরা যা যা করবে, নির্লিপ্ত চিত্তে আমাদের তা দেখে যেতে হবে। আমরা অবশ্যই চাই না, আইনের শাসন অধঃপতিত হোক, দেশটা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হোক। আমরা দেখতে চাই, উল্লিখিত ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হয়েছে। অভিযুক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং তার অনুসারীদের দ্রুততার সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হোক, দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত হোক। মনে রাখা উচিত, এমন অপকর্মকে বাড়তে দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হলে সমাজে অসন্তোষ বাড়বে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে এবং আইনের শাসনের পথ রুদ্ধ হবে।