• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

দিনলিপি : ২০১০

তানভীর মোকাম্মেল

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

জানুয়ারি ০৬, ২০১০
পৌষ ২৩, ১৪১৬

তারেককে বললাম যে আর্কাইভের জমি নিয়ে যেহেতু এরকম জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে ও যেন তথ্যসচিবের সঙ্গে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে যাতে আমরা সচিবকে বিষয়টার গুরুত্ব ভালোভাবে বোঝাতে পারি। তারেক জানতে চাইছিল আমার হাতের এই অবস্থা নিয়ে আমি মন্ত্রণালয়ে যেতে পারব কী-না ? বলেছি যদিও আমার হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা এবং ওভাবে মন্ত্রণালয়ের করিডোরে ঘোরাফেরা খুব কাজের কথা নয়, তবুও যেতে চাই। কারণ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জাপানী টাকাটা অব্যবহৃত থেকে ফিরে গেলে দেশের জন্যে তা’ ক্ষতিকর হবে।

দুপুরে সঞ্জীব ও রুমা বাসায় এসেছিল। আমার সঙ্গেই দুপুরে খেল ও অনেকক্ষণ ছিল। ওদের সঙ্গে খুলনায় শিশুদের জন্যে একটা স্কুল করার ব্যাপার নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হোল। ওদেরকে বলেছি স্কুলটা হতে হবে আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে এবং কিছুটা নিরীক্ষাধর্মী যেখানে গরীব পরিবারের শিশুদের প্রাধান্য দেয়া হবে। ওরা আমার সঙ্গে একমত। ২০১১ সালের শুরু থেকে স্কুলটা চালু করার ইচ্ছা আমাদের। এ ব্যাপারে আগামীকালও ওদের সঙ্গে বসব। বিষয়টা আরো বিশদে আলোচনা করতে চাই।

জানুয়ারি ০৭, ২০১০
পৌষ ২৪, ১৪১৬

কোপেনহেগেন থেকে কাজল ও লিজ টেলিফোন করেছিল। লিজ জানাল পরশু বিকালে ও আর বিরগিটে ঢাকায় আসছে। পরশু ওদেরকে আমার এখানে ডিনার করতে বলেছি। বিরগিটে দিন কয়েক আমার এখানেই থাকবে।

খুলনার স্কুলটার ব্যাপারে সঞ্জীব আজ একটা ছেলেকে বাড়ীতে নিয়ে এসেছিল। ছেলেটার নাম রবি। এক সময় মোমেন ভাইদের “ফুলকি” স্কুলে কাজ করেছিল। এ ধরণের স্কুলের ব্যাপারে ওর কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিশুদের স্কুলটার ব্যাপারে আমি ওকে আমার ধারণার কথাগুলো বলেছি। বলেছি এটা হবে নিরীক্ষাধর্মী একটা আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে শিশুদের নানা রকম সাংস্কৃতিক বিষয়াদিও শেখানো হবে। মনে হয় সঞ্জীব ও রবিকে আমার ধারণাগুলো বোঝাতে পেরেছি। যে বিষয়টা ওদেরকে আমি বিশেষভাবে বলতে চেয়েছি তা’ হচ্ছে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নয়, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্যেই স্কুলটি হবে।

আজ বাংলাদেশ-ভারত একদিনের ক্রিকেট ম্যাচ ছিল। বাংলাদেশ ছয় উইকেটে হেরেছে।

জানুয়ারি ০৮, ২০১০
পৌষ ২৫, ১৪১৬

সকালে বাসাতে সঞ্জীব ও রুমার সঙ্গে খুলনার স্কুলটার ব্যাপারে বসেছিলাম। ওদেরকে বললাম যে এটা হবে দরিদ্র শিশুদের জন্যে এমন একটা নিরীক্ষাধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে শিক্ষা ব্যাপারটাই হবে এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা। এখানে বৈজ্ঞানিক ও অসাম্প্রদায়িক এক শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এবং শিশুদের সংবেদনশীলতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের ব্যাপারে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। ওদেরকে বলেছি আমি কোনো এনজিও গড়তে চাই না। আর কেবল ধনী পরিবারের শিশুদের জন্যেও একটা ইস্কুল গড়ার কোনো অনুপ্রেরণা আমি পাই না। এটা হবে এমন এক ইস্কুল যেখানে শিশুদেরকে আমরা বিনামূল্যে ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করব। আশা করি ওরা আমার কথাগুলো বুঝতে পেরেছে। তবে আমি জানি আমাদের এই ইস্কুল প্রচেষ্টার সঙ্গে যাঁরাই জড়িত রইবেন তাঁদের সবার সঙ্গেই আমাকে বারবারই শিক্ষাবিষয়ে আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনাগুলোকে বলতে হবে। আর এ ব্যাপারে আমাকে হতে হবে ক্লান্তিহীন।

রাতে সপরিবারে শাকীল, চিত্রা ও ইকবাল আমাকে দেখতে এসেছিল।

জানুয়ারি ০৯, ২০১০
পৌষ ২৬, ১৪১৬

গৌতম ঘোষের “মনের মানুষ” ছবির শুটিং-য়ের ব্যাপারে সানুদা এখন ঢাকায়। সকালে ওঁর দলবল নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সানুদা বললেন লালনের উপরে এই ছবিটার ব্যাপারে প্রসেনজিৎ খুব পরিশ্রম করছে। সানুদা আমার কাছে দু’টো ব্যাপারে সহায়তা চাইলেন। এক ঢাকায় ওঁর বইয়ের একটা প্রকাশনা উৎসব করা যায় কী-না ! বলেছি ফিল্ম ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে সেটা সহজেই করা যাবে। দ্বিতীয় সহায়তাটা চাইলেন যে আগামী শীতে ঢাকায় গৌতম ঘোষের ছবিগুলির একটা রেট্রোস্পেক্টিভ করা সম্ভব কী-না। জানিয়েছি এটার ব্যাপারেও আমি সহায়তা করব।

সকালে বিক্রমও এসেছিল বাসাতে। বাংলাদেশ পুলিশের আইজি ও-হবে, না খন্দকার-হবে, এ নিয়ে নানা জটিলতার কথা জানাল।

সন্ধ্যায় লিজ আর বিরগিটে ডেনমার্ক থেকে এসে পৌঁছল। ওরা অমার সঙ্গেই ডিনার করল। বিরগিটে আগামী দু’তিনদিন আমার বাসাতেই থাকবে। ও শিক্ষকতা করে।

জানুয়ারি ১০, ২০১০
পৌষ ২৭, ১৪১৬

সকালে হাসপাতালে গেলাম। ডাক্তার সাহেবেরা পুরনো ব্যান্ডেজ খুলে একটা নতুন ব্যান্ডেজ বেঁধে দিলেন। জানালেন, আমার হাতের অবস্থা উন্নতির দিকে।

দুপুরে ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত নিয়েই মন্ত্রণালয়ে যেতে হোল। তথ্যসচিবের সঙ্গে আর্কাইভ বিষয়ে সভাটা হোল। তারেক, মোর্শেদ ও জাহাঙ্গীরও ছিল। সচিবকে আমরা হয়তো বোঝাতে পেরেছি যে কেন ফিল্ম আর্কাইভের পাঁচশ আসন বিশিষ্ট একটা বড় মিলনাতন প্রয়োজন। আরেকটা বিষয়ও আমি জোর দিয়ে বললাম। তা’ হচ্ছে মাটির নীচে গাড়ী পার্কিং-য়ের ব্যবস্থা রাখা। ঢাকা শহরে যেভাবে স্থান সঙ্কোচন ঘটছে তাতে রাস্তায় আর গাড়ী পার্কিং সম্ভব নয়, শোভনও নয়। এখন থেকে সব বড় ভবনের নীচেই গাড়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকাটা কাম্য। ফিল্ম আর্কাইভের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কিছু হওয়ার আলাদা কোনো কারণ নেই। ফিল্ম আর্কাইভের ভবনেও অবশ্যই মাটির নীচে গাড়ী পাকিং-য়ের সুব্যবস্থাটা থাকতে হবে। মনে হোল সচিব সাহেব বুঝেছেন। বর্তমান তথ্যসচিব কামাল চৌধুরী অবশ্য নিজেও একজন শিল্পমনস্ক মানুষ।

জানুয়ারি ১১, ২০১০
পৌষ ২৮, ১৪১৬

সিঙ্গাপুর চলচ্চিত্র উৎসব থেকে উৎসটায় যোগ দেবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সিঙ্গাপুরে যেতে ভালোই লাগবে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে ২৪ শে এপ্রিল সাদিয়ার বিয়ে। ওর বিয়েতে আমার লন্ডনে যাবার কথা। এদিকে সিঙ্গাপুর উৎসবটি আবার প্রায় একই সময়ে ! দেখা যাক্ কী করা।

খুলনায় ওরা যে শিশু চলচ্চিত্রউৎসবটা করছে সেটার জন্যে অর্থ সংগ্রহের ব্যাপারে ওরা গ্রামীণ ফোনকে বলতে চায়। ওরা আমাকে অনুরোধ করেছে গ্রামীন ফোনকে বলার জন্যে। গ্রামীণ ফোনের কাউকেই আমি চিনি না। তবুও ওদের জন্যে এই চেষ্টটা করতে হবে।

কাওরি জানাল জাপানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে “বস্ত্রবালিকারা” দেখানো হচ্ছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আমার কাছে একটা বাণী মতো চেয়ে পাঠিয়েছেন যা ছবি শুরুর আগে আমার বক্তব্য হিসেবে পড়ে শোনানো হবে।

আজ বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট ম্যাচ ছিল। বাংলাদেশ হেরেছে।