• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

দিনলিপি : ২০১০

তানভীর মোকাম্মেল

| ঢাকা , রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

অক্টোবর ১৯, ২০১০

কার্তিক ০৪, ১৪১৭

বিকেলে ফ্লাইটে কলকাতায় এসেছি। তবে যে দিনটা ভ্রমণ থাকে সেই দিনটা অন্যান্য কাজ তেমন করা যায় না। তবু তার মধ্যে একটা নতুন মোবাইল টেলিফোন কিনলাম (আগেরটি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজা দেখতে যেয়ে পকেটমার হয়েছে !)। এছাড়া মুখের উপরের পাটির একটা দাঁত বেশ যন্ত্রণা দিচ্ছিল। তাই সকালে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। উনি কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দিলেন। তবে বললেন যে দাঁতটায় রুট ক্যানিং করতে হবে। কলকাতা থেকে ফিরে এসে আগামী মাসে এটা করা যেতে পারে।

কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে দেখলাম বিশাল ভীড়। মুসল্লীরা সব হজ্বে যাচ্ছে। আর তাঁদের আত্মীয়-স্বজনেরা এসে বিমানবন্দরের চত্বর, মায় সামনের রাস্তাটা পর্যন্ত ভরিয়ে ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এত মানুষ যে হজ্বে যায় আমার ধারণা ছিল না !

দেবেশ রায়ের “বরিশালের যোগেন মন্ডল” উপন্যাসটি পড়ছিলাম। শেষ হয়নি। তবে বইটি এত বড় আর ভারী যে এবারের ভ্রমণে আর সঙ্গে নিয়ে আসিনি। দেশে ফিরে উপন্যাসটার বাকী অংশটা পড়তে হবে।

অক্টোবর ২০, ২০১০

কার্তিক ০৫, ১৪১৭

পার্থ আর সুরজিৎ দু’জনের সঙ্গেই ফোনে কথা হোল। ওঁদেরকে বললাম যে লালনের উপর আমার সাক্ষাৎকারটি আমি সঙ্গে নিয়ে এসেছি। সিডি-ও করা হয়েছে। ওরা কেউ যেন এসে লেখাটা নিয়ে যায়।

সুরজিতের সঙ্গে নবদ্বীপ যাবার কর্মসূচীটি নির্ধারণ করা হোল। ঠিক হোল আঠাশ তারিখে আমি চন্দননগরে সুরজিতের ওখানে আসব। ওখান থেকে একসাথে কৃষ্ণনগরে যাব। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে কলকাতায় আমার কাজের অবস্থার উপরে।

আজ আ.স.ম. আবদুর রবের সাক্ষাৎকারটি নিয়ে বসেছিলাম। সিরাজুল আলম খানের সঙ্গে ওঁদের নিউক্লিয়াস গঠন ও নিউক্লিয়াসের তৎপরতা, একাত্তরের মার্চ মাসে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তৎপরতা এবং মুজিববাহিনীর গঠন ও কাজ এই সব অংশগুলো হয়তো রাখা যাবে। সাক্ষাৎকারের বাকী অংশগুলো বক্তৃতাধর্মী ও অন্ত:সারশূন্য। আর কম্পিউটারে ধারণ করা হোল জেনারেল শফিউল্লাহ্র সাক্ষাৎকারটি। আগামীকাল এটা কাটা হবে। প্রায় রাত দেড়টা পর্যন্ত কাজ চলল। ক্লান্ত শরীরে ঘুমাতে যাচ্ছি।

হার্টের অপারেশন করাবেন বলে হাসান আজিজুল হক অনেক ডলার ভাঙ্গিয়েছিলেন। কিন্তু অপারেশন করাতে হয়নি বলে ওর হাতে এখন অনেক ভারতীয় রুপী যা ওঁর কোনো কাজে আসবে না। কারণ উনি দেশে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে আমার ডলারগুলো ওঁকে দিয়ে ওঁর ভারতীয় রুপীগুলো নিলাম। ওঁর কিছুটা উপকার করতে পেরে ভাল লাগছে।

অক্টোবর ২১, ২০১০

কার্তিক ০৬, ১৪১৭

দিল্লীর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরা ভাস্কর প্রথমে ই-মেইল ও পরে টেলিফোন করে জানতে চাইলেন নভেম্বরে ওঁরা “রাবেয়া” ছবিটি ওঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখাতে ও আমার একটা আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাইলে আমার জন্যে তা’ ঠিক আছে কী-না ? ওঁরা সম্ভাব্য দু’টো তারিখও জানিয়েছেন-আটই ও পনেরোই নভেম্বর। আট তারিখে বোধহয় করা যাবে না। আমার পাঁচ তারিখে দেশে ফেরার পরিকল্পনা। সেক্ষেত্রে দিল্লীর কর্মসূচীটি দেশে ফিরে আবার পনেরো তারিখে এসে করা যেতে পারে। দু’একদিনের মধ্যেই আমার দিল্লী যাওয়ার ব্যাপারটি ওঁদেরকে নিশ্চিত করব বলে জানিয়েছি।

সুরজিৎ ফোন করেছিল। বলল, আঠাশ তারিখ সন্ধ্যায় চন্দননগরে ও নৌ-বিহারের আয়োজন করেছে। কার্তিকের এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় রাতে গঙ্গায় ঘুরতে ভালোই লাগবে। ওঁকে বলতে হবে যেন গানের আয়োজন রাখে।

সুশীলবাবু জানালেন হাসান আজিজুল হক নিরাপদে ও ভালোভাবে দেশে ফিরেছেন। সীমান্তে কোনো সমস্যা হয়নি।

আজ জেনারেল শফীউল্লাহ্র সাক্ষাৎকারটি কাটা হোল। এছাড়া আজ তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি কম্পিউটারে ধারণ করা হোল। আগামীকাল কাটা হবে।

অক্টোবর ২২, ২০১০

কার্তিক ০৭, ১৪১৭

দিনটা সম্পাদনা কক্ষেই কাটল। আজ তোফায়েল আহমেদের সাক্ষাৎকারটি নিয়ে কাজ করা হোল। এছাড়া আমাদের আগে সম্পাদিত পাঁচ ঘন্টা টেপের তিন ঘন্টা কম্পিউটারে ধারণ করা হোল। আগামীকাল আর দু’ঘন্টা করা হবে। তারপর আমরা মূল ছবিটি কাটা শুরু করতে পারব।

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হোল। ওঁকে জানালাম যে আমি পহেলা নভেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবনে চলে আসতে চাই। বললেন, কোনো সমস্যা নেই। ওঁরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে রাখবেন।

সাদিয়ার আজ জন্মদিন ছিল। ওকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ই-মেইল পাঠালাম।

স্টানলী উলপার্টের “জিন্নাহ অব পাকিস্তান” বইটা প্রায় শেষ করে এনেছি। শেষের দশ বছরের জিন্নাহ তো চরম সাম্প্রদায়িক ও অসূয় মনোবৃত্তিসম্পন্ন এক মানুষ ! প্রায় মনস্তত্ত্বিক এক কেস্। মাউন্টব্যাটেন তো বলেওছিলেন “জিন্নাহ এক সাইকোপ্যাথিক” ! ভাবতে দু:খ লাগে যে কত রকম সম্ভাবনাই ছিল দেশভাগের ট্রাজেডীটা এড়ানোর। কিন্তু নেতাদের অবিমৃষ্ণ্যকারিতার কারণে সেটা হোল না। আর তার ফলে কোটি কোটি সাধারণ নিরীহ মানুষের কত বড় ক্ষতিই না হয়ে গেল !

অক্টোবর ২৩, ২০১০

কার্তিক ০৮, ১৪১৭

“১৯৭১”-য়ের প্রথম এক ঘন্টার একটা রাফ্কাট দাঁড় করানো গেল আজ। তবে আমি খুশী না। দৈর্ঘ্য আরো কিছুটা কমাতে হবে। আরো দু’একজনের সাক্ষাৎকার রাখতে হবে। তবে ভাল যে ছবিটা ক্রমশ: রূপ পাচ্ছে।

উলপার্টের “জিন্নাহ অব পাকিস্তান” বইটা আজ শেষ করলাম। জিন্নাহ একটা চরিত্র বটে ! পুরোপুরি অহংসর্বস্ব ও অসূয় মনোবৃত্তিসম্পন্ন একজন মানুষ। দু:খজনক যে এধরণের মানুষদের হাতেই উপমহাদেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য একদিন নির্ধারিত হয়েছে। আর তার ফলে কত ট্রাজিক পরিণতিই না ঘটেছে।

একটা নতুন বই পড়ছি। মলয় কৃষ্ণ ধরের “ট্রেন টু ইন্ডিয়া”। দেশভাগের প্রেক্ষিতে লেখা।

মহাদেবের বাবা শ্রীরামপুর থেকে কলকাতায় কয়েক দিনের জন্যে বেড়াতে এসেছেন। এই অ্যাপার্টমেন্টেই আছেন। বৃদ্ধ মানুষটি আমার “ভিন্দেশে” বইটা মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন দেখলাম। পরে রাতে খাওয়ার সময় বইটার খুব প্রশংসা করছিলেন।