• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৬ রমজান ১৪৪০

দিনলিপি : ২০১১

তানভীর মোকাম্মেল

| ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০১৯

অক্টোবর ২৭, ২০১১

কার্তিক ১২, ১৪১৮

দুপুরে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের জন্যে ক্লাস নিলাম। ওদেরকে আজ পড়ালাম “চলচ্চিত্রের ভাষা”।

সন্ধ্যাতে আমার বাসায় আজো “১৯৭১” ছবিটার রাফকাটের একটা প্রদর্শনী করলাম। মেজর কামরুল, আকাশ, ড: জামাল, উত্তম, চিত্রা, আরজু, সগীর এরা সবাই উপস্থিত ছিল। কয়েকটা ভালো সুপারিশ পাওয়া গেল। বিশেষ করে আকাশ ও মেজর কামরুলের কাছ থেকে। এখন মোটামুটি বুঝতে পারছি যে “১৯৭১” ছবিটার ব্যাপারে আমি যেভাবে এগিয়েছিলাম তা’ ঠিকই আছে। মূল কাঠামো ও বক্তব্য সম্পর্কে কারো ভিন্নমত নেই। যে দু’একটা সুপারিশ এসেছে তা’ সবই ছোটখাটো কিছু তথ্যের বিষয়ে। আর সেটাই আমি চাইছিলাম। আমাদের গবেষণার ক্ষেত্রে তেমন ফাঁক নেই। তবু আমি চাইছিলাম সবাইকে দেখিয়ে, সবার মত নিয়ে, যতটা সম্ভব নির্ভূল থাকা যায়।

নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচনটা বেশ হয়েছে। প্রার্থীরা হচ্ছেনÑ আইভী, শামীম ওসমান ও বিএনপি-র তৈমুর। সবার মুখে এখন নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের কথা।

অক্টোবর ২৮, ২০১১

কার্তিক ১৩, ১৪১৮

সকালে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে “ডিজিটাল ক্যামেরা প্রশিক্ষণ ওর্য়াকশপ”-য়ের উদ্বোধন হোল। রাকিব কোর্সটা করাচ্ছে।

তারপর উত্তমকে তুলে নিয়ে ধলেশ্বরীর পারে আমার নৌকাতে গেলাম। নৌকাটা তৈরী করার পর প্রায় দশ বছর হয়ে গেল। একবারও ডকে তোলা হয়নি। নৌকার তলায় বেশ জং ধরেছে। দু’একটি ছিদ্রও হয়ে যেতে পারে। নৌকাটা নিয়ে তাই ফতুল্লার এক ডক ইয়ার্ডে দিয়ে এলাম। ওরা নৌকাটা উপরে তুলল। কাল থেকে কাজ শুরু হবে। ওখানে দেখি জেলেরা নদীতে মাছ ধরছে। ওদের কাছ থেকে কিছু ছোট রুই মাছ ও কিছু পুঁটি মাছ কিনলাম।

ঠিক করেছি আটই নভেম্বর, মানে ঈদের পরদিন, খুলনায় যাব। তিন-চারদিন থাকব। একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে মংলা বন্দরে শুট্ করা। আর দ্বিতীয় লক্ষ্য হচ্ছে “জীবনঢুলী”-র জন্যে বৈঠাঘাটা ও বনানী বিশ্বাসদের গ্রামটায় কিছু লোকেশন দেখে আসা। উত্তম ও চিত্রাও যাবে সঙ্গে। এছাড়া নৌ-কমান্ডো খলিলুর রহমান সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি।

অক্টোবর ২৯, ২০১১

কার্তিক ১৪, ১৪১৮

নৌ-কমান্ডো খলিলুর রহমানের সঙ্গে আজ কথা হোল। আট তারিখে, মানে ঈদের পরদিন, খুলনায় যাব এবং মংলায় শুট্ করব। উনি আরো দু’একজনকে বলে রাখবেন কিম্বা সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

দিনটা বাসাতে। ঋত্বিক ঘটকের উপর লেখাটার কাজে হাত দিয়েছি। মনে হচ্ছে আরো সপ্তাহ দুয়েক লাগবে।

ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ডিজিটাল ক্যামেরার উপরে ওয়াকর্শপ চলছে। রাকিব জানাল, ওয়াকর্শপ ভালো চলছে। ও আজ ছাত্রছাত্রীদের ক্যামেরার বিভিন্ন অংশ ও ব্যবহার-প্রক্রিয়া দেখিয়েছে এবং ছাত্ররা বেশ উৎসাহী। আগামীকাল থেকে ওঁদের শুটিং শুরু হবে।

“১৯৭১” ছবির কিছু গ্রাফিক্সের কাজ করাচ্ছি। মুনীরা, আসিফ এঁরা কাজটা করছে। আজ ছবির গায়ে ওগুলো লাগানো হোল। তবে ছোটখাটো কিছু সংশোধনীর কাজ এখনো বাকী রয়েছে।

“সংবাদ”-য়ে আমার ডায়েরীর প্রতিক্রিয়ায় দুলাল একটা লেখা লিখেছে। ও বলতে চেয়েছে যে ওদের অবদানের কথা আমি যথেষ্টভাবে বলিনি। ওর অনুযোগটা হয়তো সত্য। “ঋত্বিক চলচ্চিত্র সংসদ”-য়ের কাজের বেলায় দুলালের আন্তরিকতা ও অবদান ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু অন্য ছেলেগুলোর বেলায় অতটা বলার সুযোগ নেই।

অক্টোবর ৩০, ২০১১

কার্তিক ১৫, ১৪১৮

গুনহিল্ড বাংলাদেশে এসেছেন। আমার এখানেই উঠেছেন। পরশু কুমিল্লাতে চলে যাবেন। আমার জন্যে উপহার হিসেবে দু’টো ডিভিডি নিয়ে এসেছেন। একটা হচ্ছে কোয়েল ভ্রাতৃদ্বয়ের ছবি “এ সীরিয়াস ম্যান”, আরেকটি আফগান যুদ্ধের উপরে একটা ডেনিশ ছবি।

নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচনে আইভী জিততে চলেছেন। পরাজিত হতে চলেছেন শামীম ওসমান। মাস্তান হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমানের পরাজয়ে সবাই খুশী হয়েছে।

সন্ধ্যায় বিপাশার চিত্র প্রদর্শনী দেখতে বেঙ্গল ফাইন্ডেশনের গ্যালারীতে গিয়েছিলাম। বিপাশা অনেক গল্প করল। ওর কয়েকটা ছবি বেশ ভালোই লাগল। এরপরে গেলাম বত্রিশ নম্বর রোডের “সন্তুর” রেস্তোরাঁয়। গুনহিল্ড আমাদেরকে ডিনার খাওয়ালেন। আমি ছাড়াও ড: জামাল ও ওঁর স্ত্রী ছিলেন।

আগামীকাল আমার নৌকার কাজকর্ম দেখতে ফতুল্লায় যাব। ওখানকার এক ডক ইয়ার্ডে আমাদের নৌকাটা সারানো হচ্ছে।

অক্টোবর ৩১, ২০১১

কার্তিক ১৬, ১৪১৮

দিনটা ফতুল্লায় নদীর পারে কাটল। ওখানে আমাদের নৌকার কাজ চলছে ধর্মগঞ্জের এক ডকইয়ার্ডে। জায়গাটা পঞ্চবটির পেছনে। নৌকার তলায় দু’তিনটি ছোট ছিদ্র হয়েছে। লোহার শীট কিনে ওগুলো বোজানোই মূল কাজ। এছাড়া রয়েছে নৌকার তলাটা রং করা। উত্তম ছিল সঙ্গে। ও থাকাতে বিরাট সবিধা হোল। এসব কাজ ও বোঝে ভাল। ফলে মিস্ত্রীরা আমাদেরকে তেমন ঠকাতে পারে না। উত্তমই মূলত: মিস্ত্রীদের কাজের তদারকী করছিল। আর আমি নদীর পারে বসে কিছু বইপত্র পড়লাম আর লোকজনের নানা তৎপরতা দেখছিলাম। বাংলাদেশের নদীগুলোকে যে মানুষ কতভাবে ব্যবহার করে ! আর নদীর পারে মানুষের যে কত রকম অর্থনৈতিক তৎপরতা। দেশে অনেক রাস্তা তৈরী হলেও বাংলাদেশের নদীগুলোই এখনও এদেশের প্রধান শিরা-উপশিরা।

“নিউ এজ” পত্রিকা থেকে আমার একটা সাক্ষাৎকার চেয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েছে। আগামীকাল ওঁদেরকে প্রশ্নের জবাবগুলো পাঠাব।

আবিদ আজ আমাদের এখানের কাজ থেকে ইস্তফা ছিল। আমাদের নতুন সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে যোগ দিল শিমুল। এ ছেলেটিও আমাদের ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ছাত্র।