• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব সানি ১৪৪১

বাংলাদেশের ফুটবল আগ্রহে মুগ্ধ ফিফা সভাপতি

    সংবাদ :
  • ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

image

হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদকর্মীদের অপেক্ষা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আসলেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে। খেলোয়াড়দের মতো উল্টো ঘুরে জার্সির পোজও দিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, ‘আমি মনে করেছিলাম আমি এমন দেশে এসেছি যারা ফুটবল সম্পর্কে কিছু হয়ত জানে। কিন্তু ফুটবলের মাঝে নেই। যা দেখলাম তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যারা শুধু ফুটবলই খেলছে না, তারা ফুটবলেও বাঁচে। আর ফুটবলে বাঁচা ফিফার নতুন স্লোগান। আমি আনন্দিত যে এখানে তেমন একটা ইতিবাচক অনুভূতি অনুভব করতে পারছি।’

বাংলাদেশে আসার পর ফিফা সভাপতির মুগ্ধতা বোঝা গেল তার কথায়, ‘এখানে ফুটবলকে আরও কাছে নিয়ে আসতে চাই। কারণ আপনাদের আছে প্রায় ১৭ কোটি জনগণ। বাইরে কত আছে সেটা জানা নেই। তবে আপনাদের যে সংস্কৃতি, ইতিহাস ও খাদ্যাভাস আছে এ নিয়ে গর্ব করা উচিত। তাই আমি আশাবাদী যে আমরা এখানে কী করতে পারব।’

বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকায় পৌঁছান ফিফা সভাপতি। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রীকে ফিফার পক্ষ থেকে জার্সি উপহার দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীও ইনফান্তিনোকে একটি জার্সি উপহার দেন। সেই আলোচনা প্রসঙ্গে ফিফা সভাপতি জানান, ‘প্রায় এক ঘণ্টার মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে তরুণদের ফুটবল নিয়ে আলোচনা করেছি। দু’দিন আগে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে অসাধারণ খেলেছে। শেষ মুহূর্তের গোলটি না হলে হয়ত ১-১ ড্র হতো না। সব কিছুই সম্ভব ফুটবলে, আর এটাই আশা জাগাচ্ছে। আমরা তরুণদের বিশেষ করে আপনাদের বয়সভিত্তিক ফুটবলে সম্প্রতি অসাধারণ যেসব ফল যে হচ্ছে তা নিয়েই আলোচনা করেছি।’

বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে ফুটবলের ভবিষ্যৎ উন্নতি নিয়ে আমরা কথা বলেছি। তাদের খেলাটির প্রতি আবেগ থেকেই বলছি, ফুটবলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল।’ এই অঞ্চলে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনো জানান, ‘ফিফার হয়ে আমরা বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় আরও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করব। তরুণদের থেকে শুরু করে ছেলে ও মেয়ে, বয়সভিত্তিক ফুবল, ক্লাব ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আইডিয়া ও টুর্নামেন্ট নিয়ে আসতে চাই।’

বয়স ভিত্তিক পর্যায়ে ও মেয়েদের ফুটবলে গত কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন ইনফান্তিনো। এ দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন গত জুনে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঝুঁকে পড়া নিয়েও কথা বলেন ইনফান্তিনো। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে না পারলে পৃষ্ঠপোষক বা সরকারি সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয় তা মেনে নেন সুইস-ইতালিয়ান এই কর্মকর্তা।

নতুন নতুন প্রতিযোগিতা চালু করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার সুযোগ বাড়াতে ফিফা কাজ করছে বলে জানান তিনি। ছেলেদের বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ এবং মেয়েদের ফুটবলে দল সংখ্যা ২৪ থেকে বাড়িয়ে ৩২ করার কথাও উল্লেখ করেন। বিশ্বকাপে এশিয়ার দেশ সংখ্যা ৮টি হওয়ার কথাও জানান তিনি ‘আপনি যদি জাপান, কোরিয়া, ইরান বা অস্ট্রেলিয়া না হন, তাহলে আপনি হতাশ হয়ে যাবেন। ছেলেদের (৩২ দলের) বিশ্বকাপে এশিয়ার মাত্র চারটি দেশ অংশ নিতে পারে। আর আপনি জানেন যে আপনার সুযোগ খুবই সামান্য।

ময়েদের ফুটবলে বিনিয়োগ করতে আমি উৎসাহিত করি। কেননা, মেয়েদের ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা এখনও অতটা কঠিন নয়। ইউরোপে ছেলেদের ফুটবল যতটা কাঠামোবদ্ধ, মেয়েদের ফুটবল ততটা নয়। তাই মেয়েদের ফুটবলে তুলনামূলক দ্রুত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ আছে। আর আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ তা পারবে।’ শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ইনফান্তিনো দুপুরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে যান সংস্থাটির কার্যালয়ে। এরপর সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। হোটেল থেকে বিকেলে বেরিয়ে যান ফিফা সভাপতি। সন্ধ্যায় নিজস্ব বিমানে লাওসের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।