• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

‘মেজর আবদুস সালেক চৌধুরী ও সালদা যুদ্ধ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

    সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

মুক্তিযুদ্ধে মেজর আবদুস সালেক চৌধুরী (বীরউত্তম)-এর যুদ্ধকালীন স্মৃতিবিজড়িত তথ্য সংবলিত ‘মেজর আবদুস সালেক চৌধুরী ও সালদা যুদ্ধ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মেজর আবদুস সালেকের আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীরা বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বইটি লিখেছেন তাজুল মোহাম্মদ ও প্রকাশ করেছে সাহিত্য প্রকাশ।

লেখক তাজুল মোহাম্মদ বলেন, সালদা নদীর এলাকায় যুদ্ধ করা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আবদুস সালেক চৌধুরীর যুদ্ধকালীন স্মৃতিবিড়জিত ঘটনাবলী নিয়ে বইটি লেখা হয়েছে। বইটিতে তার সহকর্মী, ছোট ও বড় ভাই, আত্মীয়স্বজনের ভাষায় মেজর আবদুস সালেকের বিষয়ে অনেক তথ্য উঠে এসেছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গল্প বইটিতে তুলে ধরতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। বইটি লিখতে যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ। তিনি আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক মুক্তিযোদ্ধার গল্প লিখেছি। কিন্তু আবদুস সালেকের বইটি লিখতে একেবারে অন্যরকম মনে হয়েছে। তার দেশাত্মবোধে আমি আবিভূত হয়েছি।

বইটির প্রকাশক মফিদুল হক বলেন, বইটিতে মেজর আবদুস সালেকের অনেক অজানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে যা আমরা আগে কখনওই জানতাম না। দেশপ্রেমের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত দেখিয়ে গেছেন মেজর আবদুস সালেক। বইটি পড়ে মেজর সালেক ও তার যুদ্ধাভিযান সম্পর্কে পাঠক অনেক তথ্য পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

মেজর সালেকের বড় ভাই আবদুল মতিন চৌধুরি মঞ্জু বলেন, সালেক আমার চেয়ে দুই থেকে আড়াই বছরের ছোট ছিল। হঠাৎ সে দেশের প্রতি ভালোবাসায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে কাউকে না জানিয়ে মুক্তি যুদ্ধে চলে গিয়েছিল। আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়েছি কিন্তু দেশের জন্য আত্মত্যাগের কারণে যে সম্মান সে পেয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সম্মানি ব্যক্তিরা তার মরদেহ সামনে রেখে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল জাফর ইমাম। তিনি বলেন, মেজর সালেকের সঙ্গে আমার স্মৃতি খুব বেশি নেই। আমার যতদূর মনে পড়ে, একদিন পাতলা, হাফহাতা শার্ট পরা একটি ছেলে আমাদের আমার সঙ্গে দেখা করে। সে আমাকে একটু ভয় ভয় করে কথা বলত এবং খুবই স্ট্রেট ফরওয়ার্ড ছিল। সে যেটা করতে চাইত সেটা সে করেই ছাড়ত। আজ আমরা মুক্তি যুদ্ধের গল্প ভুলতে বসেছি। আমাদের বীরেরা যুদ্ধে সময় যে বীরত্ব দেখিয়েছে তাও ভুলতে বসেছি। আবদুস সালেকে নিয়ে বইটি লিখার কারণে তার স্মৃতি ধরে রাখার একটি সুযোগ হলো। আজ আমরা মরে গেলে, আমাদের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুই মুছে যাবে। আমাদের উচিত আমাদের গৌরবের স্মৃতিগুলো পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো। নয়ত একদিন আমাদের গৌরবের কোন স্মৃতি থাকবে না। আজ আবদুস সালেককে নিয়ে লেখা বইটি প্রকাশে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রকাশক মফিদুল হককে বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই বইটি প্রকাশ করায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক, মেজর দিদার আতোয়ার হোসেন, ফতেহ আলি চৌধুরি, আলী আহমদ জিয়াউদ্দিন প্রমুখ।