• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

‘ছয় বছরেও প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন হয়নি’

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

image

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুলতানা কামাল -সংবাদ

সরকার প্রতিবন্ধীদের প্রতি মাসে মাত্র ৭শ’ টাকা ভাতা দেয়। এই সামান্য টাকা তুলতে গেলেও দুর্নীতিবাজরা টাকা কেটে রেখে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ : বাস্তবায়ন, বিদ্যমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন বক্তারা একথা বলেন। বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ৬ বছর আগে আইন তৈরি হলেও এখনও সেটা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এর প্রধান কারন আমরা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বড় বড় কথা বললেও বাস্তবে তাদের গুরুত্ব আমাদের কাছে নেই।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর ৬ষ্ঠ প্রবর্তন বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদের সভাপতি নাসিমা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থি ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র- এর সভাপতি নাসিমুন আরা হক, জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার সভাপতি আবদুল হাই ম-ল, ব্লু ল ইন্টারন্যাশনালের ইন-কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. রেজাউল করিম সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং উপদেষ্টা তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, সাজেদা আক্তার এবং সঞ্চলনা করেন সাংবাদিক শেখ আলী। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক সহায়তায় এবং ব্লু-ল ইন্টারন্যাশনাল এল এল পি’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থা (এনজিডিও) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ (এনসিডিডব্লিও) সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে আইনের তফশিলে বর্ণিত কার্যাদি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি দপ্তর অনুযায়ী জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে অর্থ বরাদ্দ দেয়া, সঠিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ জরীপ সম্পন্ন করতে হবে। এবং তদানুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা, শিক্ষিত ও যোগ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যহীন নিয়োগ নিশ্চিত করা, প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব দূর করার লক্ষ্যে সরকারি ভাবে প্রচারণা চালানো। আইন অনুযায়ী গঠিত সব কমিটিকে সক্রিয় করে জেলা কমিটির সদস্যদের নিয়মিত জবাবদিহীতার আওতায় আনতে হবে এবং প্রশিক্ষিত জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টসহ প্রত্যেক জেলা কমিটির একটি সুনির্দিষ্ট ও পৃথক কার্যালয় স্থাপন করা।

সুলতানা কামাল বলেন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আইন তৈরি হলেও তা প্রয়োগে ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে আন্দালনে নামতে হচ্ছে। আমরা বলছি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের রোল মডেল বলে ঘোষণা দিচ্ছি। কিন্তু বাস্তবে আমরা উন্নয়নের সাথে সভ্যতার তাল মেলাতে পারছি না। তিনি বলেন, হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য মাসে ৭শ’ টাকা। বিশেষ মানুষদের জন্য একদিকে বলছেন অধিকার সুরক্ষা অন্যদিকে হাস্যকর ভাতা। অথচ এই বঞ্চিত বিশেষ মানুষেরা যাদেরকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছিনা তারাই কিন্তু আজ অলিম্পিকে সোনা আনছে। বিশেষ ভূমিকা রাখছে দেশের বিভিন্ন কাজে। আজ তাদের করুনার পাত্র হয়ে কেন থাকতে হবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নিজেদের দিকে তাকান। কাদের পয়সায় আপনারা বেতন ভাতা পান। আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব কী জানুন। মনে রাখবেন পরের পয়সায় আজ আপনারা যে জায়গায় বসেছেন তার প্রতি গুরুত্ব দিন। শুদ্ধি অভিযান চলছে। আমি চাই এ জায়গাটাতেও শুদ্ধি অভিযান হোক। কেউ পিছিয়ে পড়বে না এই বিশ্বাসকে মনে নিয়ে যদি এ আইনটি করে থাকি তবে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আব্দুল হাই মন্ডল বলেন, আজ সেই দিন যে দিনে প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য একটি আইন পাস হয়েছে। সুন্দর আইন বাস্তবায়ন হলে প্রতিবন্ধীদের খুব ভালো হবে। ৬ বছর পর বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে। ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন হওয়ার পর থেকে জেলা উপজেলা পযায়ে নতুন করে কোন কমিটি গঠন করা হয়নি। এমনকি ২০০২ সালে কল্যাণ আইন যে কমিটি ছিল তোই আছে। তিনি বলেন, সাবেক অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বলেছিলাম প্রতিবন্ধী ভাতা ২ হাজার করবার জন্য। কিন্তু আজো ভিক্ষুকের মতো করে ৭০০ টাকা মাসিক ভাতা দেয়া হচ্ছে। আজও আইন বাস্তবায়নের জন্য দাবি করতে হচ্ছে। মোট কথা একটা সুন্দর আইন এই আইনের সঠিক বাস্তবায়ন চাই।

নাসিমুন আরা হক বলেন, আইন আছে বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ নাই। ২০১৩ সালে তৈরি হওয়া আইন আজ ৬ বছর হয়ে গেলেও প্রয়োগ তো দূরের কথা কোন বাস্তবায়নই নেই। আইন আছে কিন্তু জেলা উপজেলা পযায়ে কোনো কমিটি তৈরি হচ্ছে না। প্রতিবন্ধীদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া অত্যন্ত জরুরি। দরকার গুরুত্ব ও মনোযোগ। দেখা যাচ্ছে উদ্যোগের অভাব। প্রতিবন্ধীদের প্রত্যেকের ভেতর আছে অপার সম্ভাবনা, প্রত্যেকের ভেতর আছে অনেক প্রতিভা। প্রতিবন্ধী মানে বিশেষ মানুষ তাদের বাদ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। আইন বাস্তবায়নে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সভাপতির বক্তব্যে নাসিমা আক্তার বলেন, আজকের সরকার প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার। আজ প্রতিবন্ধী আইনের জন্মদিন। ৬ বছরের জন্মদিনে বলতে হয় আজো আমার অন্ধকারেই আছি। ৪ ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে যে আইন করা হয়েছে তারাই বেশি পিছিয়ে আছে।