• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১

আশ্বাসের পর

৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

image

আন্দোলনরত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা গতকাল নীলক্ষেতে সড়ক অবরোধ করে -সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সেশনজট নিরসন, ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশ, স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবনসহ পাঁচ দফা দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন সাময়িক স্থগিত করেছে ঢাবি অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে, দ্রুত দাবি মানা না হলে ফের রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী নীলক্ষেতে গিয়ে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন তারা। এর আগে বেলা এগারোটার দিকে ঢাকা কলেজের সামনে জড়ো হয় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে এসে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনস্থলে গিয়ে ঢাবি প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অধিভুক্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে সাময়িক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এর প্রেক্ষিতে ঢাকা কলেজের একাউন্টিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বিএম শাহিন বলেন, পাঁচ দফা দাবিতে আমরা মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন করছি। বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী আন্দোলনস্থলে আসেন। তিনি দাবি পূরণে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগেও তারা একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তবে কাজ হয়নি। তারপরও আমরা আশ্বাসের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করছি। দ্রুত দাবি মানা না হলে আমরা ফের রাস্তায় নামতে বাধ্য হব। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা কলেজের ক্যান্টিনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হচ্ছে- পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সব বিভাগের ফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে; ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স সব বর্ষের ফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে; সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন; প্রতি মাসে দুদিন করে সাত কলেজের প্রত্যেকটা বিভাগে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে এবং সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা।

দাবি পূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ : এদিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দাবি পূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্যোগের বিষয়ে জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেসব শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হয়েছে তাদের কিছু জটিলতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সাময়িক অসুবিধা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তাদের এসব সমস্যা সমাধান করার উদ্যোগ নিয়েছে। আরও বলা হয়, অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সব বিষয়ের ফলাফল প্রকাশ করার ব্যাপারে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেসব বিষয়ে অধিক হারে অকৃতকার্য হয়েছে, তদবিষয়ে আবেদনক্রমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাত কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনে স্বতন্ত্র সেল গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিভুক্ত সাত কলেজের সেশনজট নিরসনকল্পে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের জন্য একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০১৬ সনের ৪র্থ বর্ষ অনার্স পরীক্ষার ফলাফল (সি.জি.পি.এ সমন্বয় করে) ইতোমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। ডিগ্রি ১ম বর্ষ ২০১৭ পরীক্ষার রুটিনও প্রকাশিত হয়েছে। মাস্টার্স ২০১৬ অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু হবে ২৮ এপ্রিল এবং পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ জুন থেকে। অনার্স ২য় বর্ষ ২০১৮ পরীক্ষা শুরু হবে ১৯ মে। আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাবি উপাচার্যের সভাপতিত্বে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান কল্পে করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।