• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১ ফল্গুন ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল সানি ১৪৪১

বরিশাল বিভাগের ৬ কারাগারে

৩ হাজার ২শ’ বন্দীর জন্য চিকিৎসক মাত্র একজন

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫টি জেলা কারাগারে হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে মোট বন্দীর সংখ্যা ৩ হাজার ২শ’ ৭২ জন। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতালে একজন সহকারী সার্জন প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বন্দীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। বরিশাল বিভাগের অপর ৫টি জেলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর কারাগারে বন্দীদের জন্য কোন চিকিৎসক নেই। ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে জেলা কারাগারগুলোতে বন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়।

কারাবিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কারাগারে পূর্ণাঙ্গ কারা হাসপাতাল থাকতে হবে। জেলা কারাগারগুলোতে একজন সহকারী সার্জনসহ একজন করে ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্ট থাকার কথা। কিন্তু ওই ৫ জেলা কারাগারের একটিতেও সহকারী সার্জন নেই। কোনটিতে ফার্মাসিস্ট আছেন তো ডিপ্লোমা নার্স নেই, আবার ডিপ্লোমা নার্স আছেন তো ফার্মাসিস্ট নেই। ফলে কয়েদি-হাজতিদের চিকিৎসাসেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত হচ্ছে না। গুরুতর অসুস্থরা যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারেও পূর্ণাঙ্গ কারা হাসপাতাল নেই। গতানুগতিক রোগী ব্যতীত অন্য কারা হাসপাতালের চিকিৎসক অন্য সবাইকেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে বাধ্য হন।

বরিশালের উপ-কারা মহাপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম জানান, ৯ মে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিল ১ হাজার ২শ’ ২০ জন। এখানকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে একটি কারা হাসপাতাল। কিন্তু হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৬টি পদের বিপরীতে আছে মাত্র ২ জন। একজন সহকারী সার্জন আছেন এখানে। যার মূল কর্মস্থল হচ্ছে ঢাকায়। তিনি বরিশালে প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। আর আছেন একজন ফার্মাসিস্ট। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। দুজন ডিপ্লোমা নার্সের পদে একজনও নেই। এখানে নেই কোন ল্যাবরেটরিও।

বরগুনা জেলা কারাগারে ৯ মে বন্দীর সংখ্যা ছিল ৪৪১ জন। এখানে কোন সহকারী সার্জন নেই। ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্টের পদও শূন্য রয়েছে। তবে জেলা সিভিল সার্জন বন্দীদের চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য ডেপুটেশনে একজন ফার্মাসিস্ট দিয়েছেন। পটুয়াখালী কারাগারে ৫১৩ জন বন্দীর জন্য কোন গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক নেই। তবে কারা বিভাগের একজন ডিপ্লোমা নার্স এখানে কর্মরত থাকায় কয়েদি-হাজতিরা তার কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন। ভোলা কারাগারে ৫৭১ জন বন্দীর চিকিৎসা দিচ্ছেন একজন ডিপ্লোমা নার্স। পিরোজপুর কারাগারে ৩৬৪ বন্দীর জন্য আছেন মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট। ঝালকাঠি জেলা কারাগারে ১৬৩ জন বন্দীর চিকিৎসা সেবা সামাল দিচ্ছেন সিভিল সার্জন দফতরের একজন ডিপ্লোমা নার্স। অথচ প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কোন ডিপ্লোমা নার্স বা ফার্মাসিস্ট প্রেসক্রিপশন দিতে পারেন না। আর রেজিস্ট্রার্ড এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবনের পরামর্শও দিতে পারেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল বিভাগের একাধিক জেলার কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক বলেছেন, কোন হাজতি বা কয়েদির যদি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক বা জটিল কোন রোগ হয় তাহলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। এ ধরনের অসুস্থদের প্রথমে জেলা হাসপাতালে নেয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য শেষ পর্যন্ত নিতে হয় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকের অভাবে প্রায় প্রতিদিনই অসুস্থ বন্দীদের নিয়ে দৌড়-ঝাপ করতে হয়।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী সার্জন ডা. শামীম রেজা বলেন, বরিশাল কারা হাসপাতালের একজন নার্স ও একজন ল্যাবরেটরি টেকনেশিয়ান থাকলে বন্দীদের ভালো চিকিৎসা দেয়া যেত। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টেরও প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কারাগারে আসে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী। তাদের সংশোধনের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং প্রয়োজন।

বরিশালের সিনিয়র কারা তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন করে ডেন্টাল সার্জন ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকা একান্ত জরুরি। কিন্তু বরিশালে ওই পদে কেউ না থাকায় বন্দীদের দাঁত ও চোখের ছোট খাট সমস্যার জন্যও নিতে হয় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ল্যাবরেটরি টেকনেশিয়ান থাকলে রোগ নির্ণয়ের কাজ সহজ হতো এবং উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া যেত। সরকারি হাসপাতালগুলোর মতো কারা হাসপাতালে হোমিও চিকিৎসক দেয়া হলেও কয়েদি-হাজতিরাও উপকৃত হবেন।

উপ-মহা কারাপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রত্যেকটা কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতাল স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। বরিশাল বিভাগের জেলা কারাগারগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে। এখন মাদকাসক্ত বন্দীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং প্রয়োজন। কিন্তু তা যথাযথভাবে সম্ভব হয় না। তবে কারা মহাপরিদর্শক কারা হাসপাতাল ও জেলা কারাগারগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।