• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৭ ফল্গুন ১৪২৬, ২৫ জমাদিউল সানি ১৪৪১

বাগেরহাট-৪ আসন

২১ মার্চ নির্বাচনে আ’লীগের মনোনয়ন পেতে লবিং

বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয়নি এখনও

সংবাদ :
  • আজাদুল হক, বাগেরহাট

| ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপির মৃত্যুতে শূন্য হওয়া জাতীয় সংসদের বাগেরহাট -৪ আসনের উপনির্বাচন আগামী ২১ মার্চ। নির্বাচন অফিস থেকে গত বৃহস্পতিবার এ আসনের উপনির্বাচনের জন্য তফশীল ঘোষণা করা হয়েছে। তফশীল ঘোষণার খবর আসতে না আসতেই একাধিক নেতা এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার জন্য নানা লবিং শুরু করেছে বলে প্রচার পেয়েছে। ইতোমধ্যে যাদের না প্রচার পেয়েছে তারা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আবদুর রহিম খান, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রবীর হালদার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, মোড়েলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মনিরুল হক তালুকদার ও সদ্য প্রয়াত এ আসনের এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেনের পুত্রবধূ ইসমত শিরিন চৌধুরী সঞ্চিতা। বিএনপি-জামায়াত এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না তা এখনও সিদ্ধাহীনতায় বলে জানা গেছে। ডা. মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুত জেলার সব থেকে বড় উপজেলা ১৬টি ইউনিয়ন অধ্যুষিত মোড়েলগঞ্জ ও সুন্দরবন সংলগ্ন শরনখোলা উপজেলার মানুষ রাজনৈতিক অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে। শুধু এ দুই উপজেলার মানুষ নয় সর্বোপরি বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে বলে এখানের প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ-শরনখোলা উপজেলার আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের মানুষরা অপেক্ষা করছেন তাদের এ আসনে কে হবেন আওয়ামী লীগের এমপি? ডা. মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুর পর পরই বাগেরহাটের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা এ আসনের নির্বাচন নিয়েই বেশি আলোচনা সমালোচনায় সময় পার করছেন। উল্লেখ্য গত ১০ জানুয়ারি রাতে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিকে, মোড়েলগঞ্জ ও শরনখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা-কর্মীরা বলছেন গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনে এমপি পদে প্রার্থী হিসাবে এবং সাংগঠনিক যোগ্যতায় বিভিন্ন সংস্থার জরিপে এগিয়ে ছিলেন মোড়েলগঞ্জেরই ছেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেদ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। মোড়েলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এমদাদুল হক বলেন, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান শেখ আবদুল আজিজ ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তার মাধ্যমে এ উপজেলা তথা গোটা বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভীত মজবুত হয় এবং অসংখ্য নেতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শরণখোলার কৃতি সন্তান শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল ছিলেন জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা দলীয় সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুবই আস্থাভাজন। এই দুই মহান নেতার দলের জন্য অবদান ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পাশাপাশি দৈবজ্ঞ্যহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদারসহ দুই নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার প্রতিশোধসহ দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বাগেরহাট -৪ আসনের উপনির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ করতে হবে। যে প্রার্থী শুধু মোড়েলগঞ্জ নয় গোটা বাগেরহাট জেলাকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারে। দলের প্রান্তিক নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়নসহ জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে। জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবুল হাসেম শিপন ও জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, যেহেতু এটা উপনির্বাচন, একজন আদর্শবান ও জনপ্রিয় ত্যাগী নেতার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়েছে। তাই দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই প্রার্থী নির্ধারণ করবেন। বাগেরহাট বর্তমানে বাগেরহাটের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নানা সমস্যার কারণে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, সবাই তাকিয়ে আছে বাগেরহাট -৪ আসনে ডা. মোজাম্মেল হোসেনের বিকল্প কে আসবেন। মরহুম এমপির ছেলের স্ত্রী নাকি অন্য প্রার্থী। যা একমাত্র দলীয় প্রধানই বলতে পারেন। আর স্বাভাবিকভাবে এ আসনে উপনির্বাচন হলে যোগ্যতার জায়গায় যে আসবেন তাকে অবশ্যই মোড়েলগঞ্জ বা শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা হতে হবে। অন্যথায় এখানের মানুষরা প্রতিবাদী হয়ে উঠবে। কারন এ আসনে জামায়াতের ঘাঁটি রয়েছে।