• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

টেকনাফে মাদকের অভিযোগে

২১ জনপ্রতিনিধির পদ বাতিল চান সাধারণ মানুষ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কক্সবাজার

| ঢাকা , বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ২১ জনপ্রতিনিধির পদ বাতিলের দাবি তুলেছেন কক্সবাজারের টেকনাফের সাধারণ জনতা। ইতিমধ্যে ২১ জনপ্রতিনিধি ইয়াবা কারবারে অভিযুক্ত হয়ে আত্মসমর্পণসহ কারাগারে ও পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে কারাগারে থাকার কারণে স্থানীয় সুবিধাভোগী সাধারণ জনগণ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ ধারার ৪-এর (ক)/(খ) উপধারা অনুযায়ী কোন জনপ্রতিনিধি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পরিষদের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে এবং পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থের হানিকর কোন কার্যকলাপে জড়িত থাকলে অথবা দুর্নীতি বা অসদাচরণ বা নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে উক্ত জনপ্রতিনিধি তার স্বীয় পদ হতে অপসারণযোগ্য হবেন।

এসব জনপ্রতিনিধিরা হচ্ছে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রেজাউল করিম রেজু ও প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুল আলম ও দানু মেম্বার আত্মসমর্পণ করে এবং ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাফর আলম ইয়াবা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে ও সদস্য মাহমুদুর রহমান ইয়াবা মামলায় পলাতক রয়েছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ প্রঃ ইয়াবা ডন দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে। ইউপি সদস্য এনামুল হক এনাম আত্মসমর্পণ করে ও ওমর হাকিম মেম্বার ইয়াবা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে রয়েছে। ইউপি সদস্য আবদুল হামিদ ইয়াবা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পলাতক রয়েছে টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর নওশাদ আত্মসমর্পণ করে কারাগারে রয়েছে। সম্প্রতি ইয়াবাসহ আটক হয়ে কারাগারে আছেন টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর শাহ আলম এবং কাউন্সিলর রেজাউল করিম মানিক। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল মেম্বার ইয়াবা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পলাতক এবং জামাল হোসেন, নুরুল হুদাও আত্মসমর্পণ করে কারাগারে রয়েছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাকিব মেম্বার আত্মসমর্পণ ও শাহ আলম ইয়াবাসহ আটক হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোস্তাক আহমদ প্র. ইয়াবা ডন ইয়াবা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পলাতক রয়েছে। সম্প্রতি আদালতের আদেশে ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ প্র. ইয়াবা ডন-এর বাড়িঘর ক্রোক করা হয়।

একাধিক মামলা নিয়ে মাসের পর মাস বছরের পর বছর কারাগারে রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বখতিয়ার আহাম্মদ প্র. ইয়াবা ডন। সম্প্রতি বিজ্ঞ আদলত তাকে ইয়াবা মামলায় ১৪ বছর সাজা দেন। পলাতক রয়েছে একই পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদীন, কামাল উদ্দিন ও নুরুল আমিন। যদিও ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী তার এই তিন সদস্যের ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগটি অস্বীকার করেন।

এনিয়ে পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলনের মুখপাত্র সাংবাদিক আবদুল আলীম নোবেল জানান, বছরের পর বছর এইসব ইয়াবা কেলেংকারিতে জড়িত জনপ্রতিনিধিরা পলাতক ও কারাগারে থাকার কারণে সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও জেলার ডেপুটি কমিশনার চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। একই সঙ্গে বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া একান্ত প্রয়োজন মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী। এছাড়াও কক্সবাজার জেলাজুড়ে একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তারা কোনভাবে আইনের আওতায় আসছে না।