• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

১৭ বছরেও পল্টন সমাবেশে হামলার বিচার না হওয়ায় একই ধরনের পথ তৈরি হচ্ছে

সিপিবি সভাপতি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮

১৭ বছরেও পল্টনে কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলার বিচার শেষ না হওয়ায় নতুন করে একই ধরনের হামলার পথ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বোমা হামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান। গতকাল ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টনের সমাবেশে বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এই দাবি করেন।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি শুধু সিপিবির সমাবেশ ছিল না, এটা সমস্ত বামপন্থিদের মনে আশা জাগিয়ে তুলেছিল যে, বামপন্থিরা ঐক্যবদ্ধ হবে, আর উদার গণতন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি এই দেশে গড়ে তুলবে। আর এই কারণে ২০ জানুয়ারি হামলা হয়েছিল। বিচারে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, মাসের পর মাস যায়, বছরের পর বছর যায়, এখনও পর্যন্ত আমরা রায় পাইনি। তিনি বলেন, আমরা চাই, দ্রুত এই বিচার সম্পূর্ণভাবে শেষ করা হোক। হামলায় যারা শুধু বোমা বহন করেছে তারাই নয়, যারা এর পেছনে রাজনীতির ষড়যন্ত্রের নায়ক তাদেরও একই সঙ্গে আসামির কাঠগড়াই দাঁড় করাতে হবে।

সিপিবির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান বলেন, এই ঘটনার বিচারের জন্য আমরা শেখ হাসিনার কাছে গিয়েছিলাম, তাকে আমরা বলেছিলাম, রাজনৈতিক দলের উপরে এই ধরনের সন্ত্রাসী-জঙ্গি হামলার যদি বিচার করা না হয়, তাহলে আপনারাও হামলার সম্মুখীন হবেন। তিনি শুনলেন, কিছু বললেন না। এই হত্যাকা-ের বিচার না হওয়ায় এরপর থেকে দেশে হিংসা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের রাজনীতি গ্রাস করল। আওয়ামী লীগও রেহাই পেল না। তিনি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানান। সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সাইফুল হক। সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স ও খান আসাদুজ্জামান মাসুম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর আগে সকাল ১০টায়, ২০০১ সালের ঘটনার ভিডিও চিত্র প্রদর্শন ও উদীচীর স্মরণ সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে সিপিবি, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, জাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণসংহতি আন্দোলন, গণমুক্তি ইউনিয়ন, জাতীয় গণফ্রন্ট, ঐক্য ন্যাপ, গণফোরাম, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কৃষক সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, ক্ষেতমজুর সমিতি, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্ট টিইউসি, ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, হকার্স ইউনিয়ন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, যুব মৈত্রী, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, সিপিবি ঢাকা মহানগর, নারী সেল, গাজীপুর, যশোর জেলা এবং ঢাকা নগরের বিভিন্ন শাখাসহ শতাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।