• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

বরিশালে চিকিৎসকের লাশ

১২ দিনেও উদ্ঘাটিত হয়নি মৃত্যু রহস্য

স্ত্রীর দাবি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , রোববার, ১০ মে ২০২০

image

বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি সড়কের বেসরকারি মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে চিকিৎক ডা. এমএ আজাদের (৪৫) মরদেহ ২৮ এপ্রিল সকালে উদ্ধার করা হয় গত । ২৭ এপ্রিল বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ডা. এমএ আজাদ ছিলেন বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান। রহস্যজনক মৃত্যুর পর ১২ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মৃত্যুর কোন কারণ উদ্ঘাটন বা হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি। নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। তবে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ বলেছে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডা. এমএ আজাদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ দাবি করেছে তারা আশাবাদী ওই চিকিৎসকের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে। চিকিৎসক এমএ আজাদের মরদেহ উদ্ধারের পর বেসরকারি মমতা হাসপাতালের বিভিন্ন স্তরের ৯ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

চিকিৎসক এমএ আজাদ মমতা হাসপাতালের সপ্তম তলার একটি কক্ষে একা থাকতেন। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দায়িত্ব শেষে তিনি ওই হাসপাতালে বসবাস করার পাশাপাশি ওখানেই প্রতিষ্ঠিত তার ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতেন। তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম, ভাই ডা. শাহরিয়ার উচ্ছ্বাস ও দুই সন্তান ঢাকার কেরানিগঞ্জে বসবাস করেন।

এমএ আজাদের এই মৃত্যুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছন ঘটনার সময়ে বরিশালে অনুপস্থিত পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় নিহত চিকিৎসক এমএ আজাদের ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ার উচ্ছ্বাস বাদী হয়ে ২৮ এপ্রিল রাতেই বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়েরের পর ১২ দিন অতিবাহিত হলেও চিকিৎসক এমএ আজাদের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়নি।

ডা. এমএ আজাদের মৃত্যু এবং লাশ লিফটের নিচে পাওয়া নিয়ে নানা ধরনের সন্দেহ ঘনীভূত হয় লাশ উদ্ধারের পর থেকেই। লাশ উদ্ধারের আগের দিন (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইফতারি দিতে এসে তার কক্ষ তালা দেয়া দেখতে পান চিকিৎসক আজাদের ব্যক্তিগত সহকারী। তিনি বাইরে গেছেন মনে করে দরজার সঙ্গে ইফতারি ঝুলিয়ে রেখে যান ওই সহকারী। এরপর রাত ৯টার দিকে রাতের খাবার দিতে এসে সহকারী একই অবস্থা দেখেন। রাতের খাবারও দরজার সামনে রেখে যান তিনি। সেহরির সময় এমএ আজাদের স্ত্রী ঢাকা থেকে মুঠোফোনে বারবার কল দিয়েও তাকে পাচ্ছিলেন না। সকালে (২৮ এপ্রিল) তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম বিষয়টি মমতা হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী এবং বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জহুরুল হক মানিককে ফোন করে জানান। তিনি সকাল ৬টার দিকে ওই হাসপাতালের সাততলায় গিয়ে দেখেন, চিকিৎসক আজাদের কক্ষটি তালাবদ্ধ। বিষয়টি এরপর তিনি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় জানান। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে ৭ তলার ওই কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখে মুঠোফোন বিছানার ওপর রাখা। পরে পুলিশ পুরো হাসপাতাল তল্লাশি করে এক পর্যায়ে নিচতলায় লিফটের নিচ থেকে ডা. আজাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

চিকিৎসক আজাদের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, আমার স্বামী ধর্মপরায়ণ এবং পরোপকারী মানুষ ছিলেন। কারা এবং কেন তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করল তা চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন। কোহিনুর বেগম দাবি করেন, ডা. আজাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যদি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হবে তাহলে তার বুকের ৫টি হাড়, পায়ের গোড়ালি, বাম পা ভাঙ্গা ছিল কেন? সম্ভবত নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করতে লিফটের নিচে ফেলে রাখা হয়েছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক এম আর মুকুল বলেন, বিষয়টি দুর্ঘটনা অথবা হত্যা এমন বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত চলছে। ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে যাতে প্রকৃত অপরাধীকে সরাসরি ধরা যায়। কারণ আমরা কাউকে হয়রানি করতে চাই না। যে কারণে রহস্য উন্মোচনে একটু বিলম্ব হচ্ছে।