• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

অনলাইনে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী

হাওরের ৯০ ভাগ ধান কাটা শেষ

জুনের মধ্যে শতভাগ কাটা শেষ হবে

| ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২০

image

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘হাওরের ৯০ ভাগ ও সারাদেশের ২৫ ভাগ বোরো ধানকাটা শেষ হয়েছে। হাওরের অবশিষ্ট ১০ ভাগ এ সপ্তাহের মধ্যে কাটা সম্পন্ন হবে। হাওরভুক্ত এলাকাসমূহে অধিক জীবনকালসম্পন্ন ব্রি ধান ২৯ (জীবনকাল-১৬৫ দিন) ধানের আবাদ থাকায় কাটায় কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।’

মন্ত্রী গতকাল নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে হাওরসহ সারাদেশের বোরো ধান কাটা অগ্রগতি এবং করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। আগামী জুন মাসের মধ্যে সারাদেশের বোরো ধান শতভাগ কাটা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ অনলাইন ব্রিফিংয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল এবং কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ প্রমুখ সংযুক্ত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, হাওরভুক্ত সাত জেলায় (কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) শুধু হাওরের এ বছর বোরো আবাদের পরিমাণ ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে, এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মোট কাটা হয়েছে ৪ লাখ ৯৬৪ হেক্টর যা হাওরভুক্ত মোট আবাদের শতকরা ৯০.০২ ভাগ। হাওরাঞ্চলে (হাওর ও নন হাওর মিলে) মোট বোরো আবাদের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে, এর মধ্যে এ পর্যন্ত মোট কর্তনের পরিমাণ ৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৩ হেক্টর যা হাওরের জেলাসমুহের মোট আবাদের শতকরা ৬৫.৩৪ ভাগ। অন্যদিকে, সারাদেশে আবাদের পরিমাণ ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৭ হেক্টরের মধ্যে কাটা হয়েছে ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১১ হেক্টর যা মোট আবাদের শতকরা ২৫ ভাগ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হাওরভুক্ত জেলাসমূহে ধান কাটার জন্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫০০জন কৃষি শ্রমিক নিয়োজিত আছে। সফলভাবে নিরাপদে হাওর অঞ্চলের বোরা ধান দ্রুত কাটার জন্য উত্তরাঞ্চলসহ দেশের প্রায় ৪টি কৃষি অঞ্চল হতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ব্যবস্থাপনায় এবং সরকার ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় প্রায় ৩৮ হাজার জন কৃষি শ্রমিককে হাওরে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও অন্য জনপ্রতিনিধিরা, আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগের কর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রম, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও তার অঙ্গ সংগঠনসমূহের স্বেচ্ছাশ্রম, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমূহের সহযোগিতায় এ বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করা সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং এখনও করছেন। মন্ত্রী সŸাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ধান কাটার যন্ত্রপাতি সরবরাহের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহে জরুরি সহায়তা বাবদ প্রথম পর্যায়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে ৮০৩টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৪০০টি রিপার ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে ৫১৯টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৫০৮টি রিপারসহ সর্বমোট ১৩২২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৯০৮টি রিপার বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এসব কৃষি যন্ত্রপাতির মধ্যে হাওর অঞ্চলে ৩৭০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৪৫৫টি রিপার ধান কাটায় ব্যবহার হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, চলতি আউশ মৌসুমে আউশ আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যা থেকে মোট উৎপাদন হবে ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৮০০ মেট্টিক টন চাল। ইতোমধ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ফসলের (আউশ, পাট, তিল ও গ্রীষ্ম কালীন সবজি) জন্য ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩৪ জন কৃষকের মাঝে মাঝে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রণোদনা অর্থের সহায়তায় ৪১০.৮৬ মেট্টিক টন আউশ ধানের বীজ কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ফসলের জাত ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী স্থাপন ও গ্রহণকরণ কার্যক্রমের আওতায় রাজস্ব অর্থায়নে ৭৫ কোটি টাকার কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলমান আছে বলেও তিনি জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সবার সহযোগিতা বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষি ও কৃষকের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।