• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২৩ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

ফেরি বিলম্বে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন শুনানি ১৪ নভেম্বর

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

ফেরি ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে, সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে যুগ্ম-সচিবের দায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হবে।

গতকাল বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ দিন ঠিক করে এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। মামলায় দুই বিবাদীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এএম আমিন উদ্দিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরি আটকে রাখা এবং ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগী থাকার কথা যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর ম-ল জানতেন না। এ কারণে তাকে সরাসরি দায়ী করা যায় না। তবে তিনি ঘাট ব্যবস্থাপককে দীর্ঘক্ষণ আগে থেকেই পারাপারের জন্য বার্তা দিয়ে তার সঙ্গে বার বার ফোনালাপের মাধ্যমে একটা দায়ভার সৃষ্টি করেছিলেন। সর্বোপরি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বিলম্বে ফেরিঘাটে উপস্থিত হওয়া এবং তার জন্যই ফেরি অপেক্ষমাণ রাখায় এক্ষেত্রে তারও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই তিনি দায়ভার এড়াতে পারেন না। এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রতিবেদনে ভিআইপির (যুগ্ম সচিব) অপেক্ষায় ফেরি আটকে রাখার কারণে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটের চার কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। সরাসরি দায়ীরা হলেন- ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া, উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলম ও ইনল্যান্ড মাস্টার সামছুল আলম।

গত ২৩ অক্টোবর তিতাসের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে দেরিতে ফেরি ছাড়ার জন্য দায়িত্বরত ফেরিঘাটের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করেছে কমিটি। তদন্ত কমিটি যুগ্ম-সচিবের কোন দোষ খুঁজে পায়নি। পরে রিটকারী আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বরের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার বণিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এ প্রতিবেদন তৈরি করে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র তিতাস ঘোষ (১১) গুরুতর আহত হয়। ওইসময় তাকে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার আইসিইউ সুবিধা আছে এমন একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ২৫ জুলাই তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পরে রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ-রুটের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ১ নম্বর ভিআইপি ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন কুমিল্লা নামে ফেরিটি ঘাটে যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুল সবুর ম-ল পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাবেন তাই ওই ফেরিকে অপেক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ঘাট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, তিতাসকে বাঁচাতে তারা ফোন করেন জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ। সাহায্য চান ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরও। কিন্তু কারও অনুরোধই রাখেননি ঘাট কর্তৃপক্ষ।