• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

হরতাল ডেকে মাঠে ছিল না বিএনপি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

সিটি নির্বাচন ভোটে হেরে ঢাকা মহানগরে হরতাল আহ্বান করে মাঠে ছিল না বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল ভোর থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য ডাকা এ হরতালে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিল করা তো দূরের কথা হরতালের সমর্থনে কোথাও পিকেটিং করতেও দেখা যায়নি। এমনকি হরতালের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে বিএনপির অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে মাত্র ৭ মিনিট পর চলে যান। ফলে বিএনপির এ হরতালে দৃশ্যমান কোন প্রভাব পড়েনি জনমনে। যানবাহন স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করেছে। অফিস-আদালতও ছিল কর্ম ব্যস্ততায়। ফলে হরতাল ডেকে কোন সাড়া পায়নি বিএনপি। তবে বিএনপির হরতালকে কেন্দ্র করে সব ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে তৎপর ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সরেজমিনে গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় ঘুরে কোথায় বিএনপির নেতাকর্মীদের রাস্তায় পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। হরতালের সমর্থনে দলটির থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী তো দূরের কথা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও কোথায় নামতে দেখা যায়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতা-কর্মীদের নিয়ে অবস্থান করেন। তারা হরতালের পক্ষে এবং নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংখ্যা কিছুটা বাড়লে সকাল ৯টার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বিএনপির অফিসের সামনে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসে দলীয় অফিসের নিজ কার্যালয়ের ভেতরে চলে যান। বেলা ১১টার দিকে হরতালের সমর্থনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি থেকে মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পরাজিত প্রার্থী ইশরাক হোসেন এবং উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। পরে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাবিথ আওয়ালের বাবা বিএনপি নেতা ব্যবসায়ী আবদুল আওয়াল মিন্টুকেও ক্যামেরার সামনে দেখা যায়। পরে পুলিশ এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের সরে যেতে আধা ঘণ্টা সময় দেন। পুলিশের দেয়া আধা ঘণ্টা সময়ের আগেই ৭ মিনিট অবস্থান করে চলে যান দলীয় নেতাকর্মীরা।

কর্মস্থলমুখী কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারা সাংবাদিকদের জানান, কোথাও হরতাল হচ্ছে বলে তাদের মোটেও মনে হয়নি। রাস্তায় যানবাহনের ব্যাপক জট ছিল। সময় নিয়ে অনেক এলাকায় রাস্তা পার হতে হয়েছে পথচারীদের। গন্তব্যে পৌঁছতেও যানবাহন না থাকার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি তাদের। রাস্তায় ব্যাপক গণপরিবহন ছিল। তবে গাড়িতে যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। কয়েকটি গণপরিবহনের চালকরা জানান, কোথাও তারা হরতাল দেখেননি। কোম্পানি থেকে তাদের নির্ধারিত সময়ে গাড়ি নিয়ে বের হতে বলা হয়েছে। যাত্রী নিয়ে তারা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে কোথাও বাধার মুখে পড়েননি। এমনকি কোথাও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। অন্যসব দিনের মতোই যাত্রী ছিল স্বাভাবিক। কোন কোন সড়কে তাদের ট্রাফিক জ্যামে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বিএনপির হরতাল প্রসঙ্গে গতকাল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সভাপতি ম-লীর সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গির কবির নানক বলেছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির ডাকা হরতাল জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও তাদের (বিএনপির) ফল প্রত্যাখ্যান ও হরতাল আহ্বান দেশবাসীকে হতাশ-বিক্ষুব্ধ করেছে। জনগণ নির্বাচনে বিএনপিকে যেভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে, বিএনপির হরতালও একইভাবে বর্জন করেছে। এরপরও যদি বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার না করে, তাহলে তাদের দল জনগণ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হবে এবং প্রত্যাখ্যাত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’ জাহাঙ্গির কবির নানক আরও বলেন, ‘হরতাল কালচার বাংলার জনগণ বর্জন করেছে। রাস্তাঘাটে যানবাহন সবকিছুই স্বাভাবিক। এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো বিএনপি যে ভুলের রাজনীতি করে, জনগণ সেই রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ভুলের রাজনীতির কারণে মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি হরতাল ডাকলেও যানবাহন চলাচাল স্বাভাবিক ছিল। গন্তব্যমুখী মানুষও যে যার মতো নির্বিঘে্ন চলাফেরা করেছেন। অফিস আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় না থাকায় এবং জনগণ হরতাল উপেক্ষা করে রাস্তাঘাটে নামায় হরতাল পালন হয়নি। মানুষের যানমালের যাতে ক্ষতি না হয় এবং কোন নাশকতা যাতে না ঘটে এজন্য সতর্ক ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

৩০ মিনিট সময় পেয়ে ৭ মিনিটেই অবস্থান ছেড়ে উধাও বিএনপি নেতাকর্মীরা :

হরতালের সমর্থনে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থার নিয়েছিল বিএনপির গুটিকয়েক নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছিল। তবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তারা কোন মিছিল বের করেননি। দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা হরতালের সমর্থনে স্লোগান দিলেও তখন ওই রাস্তা দিয়ে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করেছে। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বিএনপির অফিসের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় দলীয় অফিসের সামনে চেয়ারেই বসে ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ এসে বিএনপির নেতাকর্মীদের ফুটপাত ক্লিয়ার করতে ৩০ মিনিট সময় দেয়। ৩০ মিনিট লাগেনি মাত্র ৭ মিনিটেই বিএনপির নেতর্কীরা ফুটপাত ছেড়ে চলে যায়। কেন্দ্রীয় দু’একজন নেতা নিজ নিজ কার্যালয়ে চলে যান আর সাধারণ নেতাকর্মীরা যে যার মতো চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম। পুলিশের এই কর্মকর্তা রুহুল কবির রিজভীকে আধ ঘণ্টার মধ্যে রাস্তা ছেড়ে দেয়ার জন্য সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দেন। পুলিশের আলটিমেটামের পর ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের থামানোর চেষ্টা করেন ইশরাক হোসেন। পরে তিন মিনিটের মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে চলে যান দলটির নেতা-কর্মীরা।