• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউল সানি ১৪৪০

সোনারগাঁয়ে মৃতব্যক্তিকে আসামি করে পুলিশের মামলা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

রামপাল প্রকল্প বাতিল দাবিতে গতকাল রাজধানীতে তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ জাতীয় কমিটি বিক্ষোভ মিছিল করে -সংবাদ

হাস্যকর হলেও সত্য যে, মৃৃত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানা পুলিশ। গত শনিবার রাতে থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়াও বছরখানেক ধরে প্যারালাইজড হয়ে চিকিৎসাধীন এক নেতাও একই মামলার আসামি।

বাদীর দায়ের করা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শনিবার সকাল ১০টায় অন্য আসামির সঙ্গে মজিবুর রহমানসহ অজ্ঞাত ৪০-৫০ জন আসামি উপজেলার সোনারগাঁ কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজের সামনে দা, চাপাতি, লোহার রড, হকস্টিক ও ইটপাটকেল ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া মিছিল শুরু করে। তারা আকস্মিকভাবে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দিয়ে পুলিশের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ৬-৭টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। আসামিরা পালিয়ে গেলে সেখান থেকে ককটেলসহ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

এদিকে মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের সন্ধানে যায় পুলিশ। পুলিশ দেখে মৃত মজিবুর রহমানের পরিবারসহ হতভম্ব হয়ে যায় এলাকাবাসী। মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে শুভ জানান, ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মাসে মারা যান তার বাবা। মৃত্যুর ১ বছর আগে ব্রেন স্ট্রোক হয়ে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন, আর তারও ২ বছর আগে তিনি রাজনীতি ছেড়েছেন। তবে তিনি এক সময় সোনারগাঁ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। তার মৃত বাবাকে জড়িয়ে কেন মামলা হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাছাড়াও বছরখানেক ধরে প্যারালাইজড হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোনারগাঁ থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুুর রউফকেও মামলার ১১ নং আসামী করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সাভার সিআরপি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আবদুর রউফের পরিবার সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এক সাইড প্যারালাইজড হয়ে যায় তার। ইতোমধ্যে দুইবার ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে তাকে। বর্তমানে সাভার সিআরপিতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রউফ। তার হাত ও পা কাজ করে না। কারও সাহায্য ছাড়া চলতে ফিরতে পারেন না। ১৩ মাস ধরে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে আছেন তিনি। এছাড়া মামলায় প্রধান আসামি হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহামুদ ও দ্বিতীয় আসামি সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার বাদী থানা পুলিশের এসআই আবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোন সদুত্তর দিতে না পেরে এড়িয়ে যান তিনি। তবে সোনারগাঁ থানার তালতলা কেন্দ্রের পরিদর্শক সোয়েব জানান, আমি মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা। যে এসআই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন তাকে কেউ ভুল তথ্য দিয়ে মামলাটি করিয়েছেন কিনা তা তদন্ত করার সময় দেখা হবে।