• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জিলকদ ১৪৪১

সীমান্ত উন্মুক্ত না হলে গরুর মাংসের দাম কমবে না

ব্যবসায়ীদের দাবি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

ভারত থেকে মাংস আমদানির জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত উন্মুক্ত না করলে গরুর মাংসের দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন গাবতলী পশুর হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষ। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক গাবতলী পশুর হাট নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা একথা জানান। বক্তারা বলেন, রমজান উপলক্ষে মাংসের দাম নির্ধারণে মহানগরীর মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন যে বৈঠক করেছেন সেখানে কোন মাংস ব্যবসায়ী ছিল না, ছিল হাড্ডি ব্যবসায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গাবতলী পশুর হাট কর্তৃপক্ষের সদস্য সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘গাবতলী পশুর হাটে কোন চাঁদা আদায় করা হয় না। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্ধারিত হাসিল- গরুপ্রতি ১০০ টাকা, মহিষপ্রতি ১৫০ টাকা ও ছাগলপ্রতি ৩৫ টাকা আদায় করা হয়। তাই এর কারণে মাংসের দাম বৃদ্ধি, এই দাবি অযৌক্তিক।’

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা শুধু গাবতলী হাট থেকে পশু কেনেন না। তারা অন্য হাট থেকেও গরু কেনেন। গাবতলী ছাড়া আরিচা হাটে ৫১০ টাকা, আশুলিয়ায় ৪০০, কেরানীগঞ্জের পাড়াগাঁওয়ে ৪০০, ফরিদপুরের অরুণখোলায় ৬০০, ধামরাইয়ে ৫০০, কমলাপুরে ৪০০, রাজশাহী সিটিতে ৪৫০, কালিয়াকৈরের কাইতলায় ৩৫০, বাইনাপাড়া হাটে ৪০০ টাকা আদায় করা হয়। যার তুলনায় গাবতলী হাটে হাসিল অনেক কম। গাবতলী হাটে সরকার নির্ধারিত ফি নেয়ায় মাংসের দাম বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা নেই।

সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে ‘গাবতলী গরুর হাট কর্তৃপক্ষ, পশু ব্যবসায়ী ও মাংস ব্যবসায়ীদের’ নামে করা হলেও সেখানে দুই একজন মাংস ব্যবসায়ী ছাড়া উল্লেখযোগ্য কাউকে দেখা যায়নি। এমনকি হাট ইজারাদার লুৎফুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন না।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- প্রতি রমজানে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র যখন মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেন, গত কয়েক বছর ধরে সেখানে গাবতলী হাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে মাংস ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির অভিযোগ করে থাকেন। কিন্তু সেখানে আজকের আয়োজক মাংস ব্যবসায়ীরা কেন প্রতিবাদ করেন না? জবাবে তারা বলেন, ‘আমরা ওই অনুষ্ঠানের কথা জানি না। ওই বৈঠকের কথা আমাদের জানানো হয় না। সেখানে যারা যান তারা মাংস ব্যবসায়ী নয়, হাড্ডি ব্যবসায়ী।’

তবে তাদের দাবি মাংস ব্যবসায়ী হিসেবে শুধু তারাই ১০০ টাকা হাসিলের সুবিধা পান যাদের তালিকা দুই সিটি করপোরেশন থেকে দেয়া হয়েছে। আর সিটি করপোরেশনের ওই তালিকা অনুযায়ী ডিএসসিসিতে ৪৭৪ ও ডিএনসিসিতে ৩৭০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, মাংস ব্যবসায়ীদের নামে রবিউল আলম নামে একজন ব্যক্তি তার কিছু লোকজন নিয়ে মেয়রকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। রবিউলের সঙ্গে যারা রয়েছে তারা কেউ মাংস ব্যবসা করে না। গাবতলী হাটে যদি চাঁদাবাজি হতো তাহলে সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে।

তাদের আরও অভিযোগ- বর্তমানে ভারত থেকে বৈধভাবে গরু আমদানি বন্ধ রয়েছে। সীমান্ত উন্মুক্ত না হলে মাংসের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।