• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮ ৩ রমজান ১৪৪২

সিপিবি নেতা মোর্শেদ আলীর জীবনাবসান

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১

image

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলী মারা গেছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয় বলে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মোর্শেদ আলী নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। আটদিন ধরে তিনি বিএসএমএমইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

মোর্শেদ আলীর মরদেহ গতকাল বেলা ১১টার দিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পল্টনে সিপিবির কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রথমেই সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতারা কাস্তে-হাতুড়ি খচিত কমিউনিস্ট পার্টির লাল পতাকা দিয়ে প্রয়াত কমরেডের মরদেহ আচ্ছাদিত করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সিপিবি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, টিইউসি, কৃষক সমিতি, ক্ষেতমজুর সমিতি, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, উদীচী, খেলাঘর, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, সাপ্তাহিক একতা, মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়েছে।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সঞ্চালনায় শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, গণমানুষের মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই করেছেন কমরেড মোর্শেদ আলী। এ দেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল আন্দোলনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে অগ্রসর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ২৬ মার্চ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মোর্শেদ আলীকে। মোর্শেদ আলী ৬৬-৬৭ সালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মোর্শেদ আলী সিপিবির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, এরশাদ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন মোর্শেদ। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা মহানগরে কমিউনিস্ট পার্টির মুখ্য নেতা হিসেবে কাজ করেছেন।

এদিকে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

এক শোক বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, ‘ছাত্র জীবন থেকেই মোর্শেদ আলী শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখতেন এবং তা বাস্তবায়নের সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি ছাত্র অবস্থায়ই কৃষকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের সংগ্রামে অংশ নিয়ে কৃষকদের সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং কৃষক মিছিল থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন। ‘তার মৃত্যুতে দেশের শ্রমজীবী মানুষ এক অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো এবং বামপন্থী আন্দোলনেরও অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’ বিবৃতিতে নেতারা মোর্শেদ আলীর শোষণমুক্ত সাম্য সমাজ নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার জন্য সব বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছে- বাম জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী) এর সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক।