• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

নোয়াখালীর ৯ উপজেলায়

সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচল চাঁদাবাজ লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে জিম্মি

প্রতিদিন সাড়ে ৪ লাখ টাকার চাঁদাবাজি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, নোয়াখালী

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

নোয়াখালীর ৪ হাজার সিএনজিও অটোরিকশা চালক চাঁদাবাজ লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ বাহিনী জেলায় প্রতিদিন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকার চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা দিতে গড়িমসি করলে চালকদের মারধরও গাড়ি ভাঙচুর করে। আর চাঁদা না দিলে গাড়ি খেয়ে ফেলে ( চাঁদাবাজদের ভাষায়)। জেলার ৯টি উপজেলার ২১টি স্পট থেকে প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে ২০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। স্পটগুলো হচ্ছে জেলা শহরের সুধারাম থানার সামনে হাসপাতাল সড়কের মাথা, মাইজদী বাজার, ইসলামিয়া সড়ক, সোনাপুর চৌরাস্তায়, কবিরহাট, বসুরহাট, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সামনে, রাজগঞ্জ, ছয়ানী, চন্দ্রগঞ্জ পূর্ববাজার, বাংলাবাজার, বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা, চৌমুহনী কাচারী বাড়ি মসজিদসংলগ্ন, জমিদার হাট, সেনবাগ রাস্তার মাথা, ছাতারপাইয়া, সেনবাগ বাজার, সোনাই মুড়ি বাইপাস, সোনাইমুড়ী বাজার, থানার হাট, চাটখিল বাজার, খিল পাড়া বাজার, সাহাপুর বাজার। এর প্রতিটি স্পটে শিপটিং করে লাঠি হাতে চাঁদাবাজ বাহিনী পাহারা দেয়। তবে বেশি বেপরোয়া বেগমগঞ্জ চৌরাস্তার চাঁদাবাজরা। তারা সিএনজি, অটোটেম্পু, বাস, ট্রাক এমনকি জেলার বাহির থেকে আসা প্রাইভেট কার, মাইক্রো বাস কিছুই ছাড়ে না। কেউ তর্ক করলে নামিয়ে মারপিট করে এবং প্রাইভেট এর মালিক ও যাত্রীদের অপমান করে থাকে।

নামও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন নেতা জানায় এ স্পটগুলো থেকে ২০ টাকা হারে দৈনিক ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা চাঁদা উঠে। মাসে আদায় হয় ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ টাকা যারা উঠায় তারা দৈনিক হাজিরা পায় ৩০০/৫০০ টাকা। বাকি টাকা স্পটের নেতা, পাতি নেতা, থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশকে দিয়ে বাকি টাকা ভাইকে (নেতা) দিতে হয়। সে আরও জানায়, অর্ধেক ভাই পায় বাকিটা সবাই ভাগ করে নেয়। জেলা ট্রাফিকের পক্ষে টিআই শাহীন চাঁদাবাজি চলছে অস্বীকার না করলে ও চাঁদাবাজরা পুলিশকে ভাগ দেয় তা দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন রশীদ চৌধুরী জানান, চাঁদাবাজদের সঙ্গে কোন আপোস নাই, যেখানে চাঁদাবাজি সেখানে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার। সেনবাগ থানার ওসি আবদুল বাতেন বলেন, এরকম চাঁদা বাজির কথা তিনি জানেন না।

চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন মেয়র খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পৌরসভার কথা বলে ও চাঁদাবাজি হয়। পৌরসভা টার্মিনালের বাহিরে কোন যানবাহনের চাঁদা তোলার অনুমতি দেয়নি। সড়কে চাঁদাবাজির জন্য পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। শুধু চাঁদাবাজি নয় এর সঙ্গে মাদক ব্যাবসা ও চলছে। নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদুল্লা খান সোহেল বলেন, চাঁদাবাজদের কারা প্রশ্রয় দেয় সবাই জানে। সুধারাম থানার সামনে দাঁড়িয়ে চাঁদা তোলে এদের এত ক্ষমতা পায় কোথায়?

পৌরসভার জ্যাকেট পরে চাঁদাবাজি করে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শুধু পৌর টোল আদায়কারীদের জ্যাকেট দেয়া হয়েছে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে। কয়েকমাস আগে ও ডিবি পুলিশ দিয়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়ে ছিল। এ অভিযান চলমান থাকবে। তিনি বলেন মাদক, চাঁদাবাজদের সঙ্গে কোন আপোস নাই। সিএনজি সমিতির নেতারা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।