• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

সারাদেশে পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

image

রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে পাটকল শ্রমিকদের অবরোধ -সংবাদ

বকেয়া বেতন, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করছেন পাটকল শ্রমিকরা। গতকাল ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়। খুলনা অঞ্চলের ৯টিসহ সারাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২২টি পাটকল শ্রমিকরা একযোগে এই কর্মসূচি পালন করছে। এর আগে দুই দফায় ধর্মঘট পালন করলেও পাটকল শ্রমিকদের দাবি পূরণে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই নতুন কর্মসূচি দেয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, মজুরি বাড়ানোর দাবি পূরণ তো হয়নি, বকেয়া টাকা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তারও কোন সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি। সে কারণে গত ১২ এপ্রিল বিকেলে খুলনা মহানগরের খালিশপুর বিআইডিসি সড়কে পিপলস জুট মিল গেটে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশ থেকে ৯ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি হচ্ছে- ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রতিটি মিলের গেটে সভা ও রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল। ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল টানা ৯৬ ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন ও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ। এরপর বিরতি দিয়ে ২৫ এপ্রিল প্রত্যেক মিলে শ্রমিক সভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল টানা ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ।

আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানান, খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম, ইস্টার্ন এবং যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলে বর্তমানে ১৩ হাজার ২৭১ শ্রমিক কাজ করছেন। মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা অঞ্চলের সব পাটকল শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

নরসিংদীর ইউএমসি জুট মিলস্ ও ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলস্-এর শ্রমিকরাও এই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে। ধর্মঘটের প্রথম দিনে গত সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নরসিংদীর সাটিরপাড়া-কামারগাঁও আঞ্চলিক সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এছাড়া ইউএমসি জুট মিলের সামনে জামতলা পৌর শ্রমিক মঞ্চে অবস্থান ধর্মঘট করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শ্রমিকরা। ইউএমসি জুট মিলস্ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সফিকুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সিবিএ সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, সাবেক সিবিএ সভাপতি আনিসুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, শ্রমিক নেতা কাউছার খানসহ অন্য শ্রমিক নেতারা।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস ও করিম জুট মিলের হাজার হাজার শ্রমিক তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সড়কে আগুন জ্বালিয়ে সেøাগান দিতে থাকেন। এ ঘটনায় সড়কে ৪ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে শ্রমিকরা চলে গেলে পুনরায় যান চলাচল স্বভাবিক হয়। লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের সিবিএর কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, মজুরি কমিশন শ্রমিকদের প্রাণের দাবি। শ্রমিকের পেটে ভাত নেই। সন্তান-সন্তুতি নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করছেন তারা। শ্রমিকরা উৎপাদনে বিশ্বাসী। রাজপথ-রেলপথ অবরোধ শ্রমিকরা পছন্দ করে না। পেটের জ্বালায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, বিজেএমসির চেয়ারম্যান মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের আন্দোলন চলবেই। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি ও বেতন প্রদান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি এবং উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ-গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাট কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা।