• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

সহিংস আন্দোলন করে সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়

জাফরুল্লাহ চৌধুরী

সংবাদ :
  • ইকবাল মজুমদার তৌহিদ

| ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

image

সহিংস আন্দোলন করে সরকারের পরিবর্তন সম্ভব না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গতকাল সংবাদের সঙ্গে এক ফোনালাপে ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, পৃথিবী বদলে গেছে, সহিংস আন্দোলন করে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে আন্দোলনকারীরা সাহেবদের উপর বোমা মেরে পালিয়ে গেছে। এখন কাদের উপর বোমা মারবে? সবাই তো আমাদের ভাই। তাই ধর্য্যরে সঙ্গে এর মোকাবিলা করতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোন কঠোর আন্দোলনে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আন্দোলনের ডাক দেয়া সহজ। আন্দোলন করবে কে? আন্দোলন করতে হলে তো কর্মী দরকার। আমাদের নেতাকর্মীরা তো মিথ্যা মামলা নিয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছে। যখন কর্মীরা নেতাদের মাঠে দেখবে না তখন তো তারা মাঠে নামবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, ৫০ বছরের ইতিহাসে কখনও সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের আচরণ করেননি। মুসলিম লীগ, পাকিস্তান, ব্রিটিশরা কেউ এরকম আচরণ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা নির্বাচনী এলাকায় গড়ে ৩ হাজার ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। পুলিশ নিয়মিত তাদের ধরপাকর চালাচ্ছে। আমাদের কর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে অনেক নেতাকর্মী জেলখানায় রয়েছে আবার যারা বাহিরে আছে তারাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।

ঐক্যফ্রন্টের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সর্বশেষ সংসদে শপথ নিবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। আমাদের এখন প্রধান কাজ ইলেকশন ট্রাইবুনালে মামলা করা। মাত্র ২০ দিন আমাদের হাতে সময় আছে, এরমধ্যে ২৯৮টি মামলার কাগজপত্র তৈরি করে তা দায়ের করা কঠিন কাজ। তাই আমরা এখন ইলেকশন ট্রাইবুনালে মামলা দেয়ার কাজটাই আগে করবো। তিনি বলেন, আমরা চাই অন্যান্য দলগুলোও যেন ইলেকশন ট্রাইবুনালে মামলা দেয়। এজন্য চরমোনাই, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও নারী সংগঠকসহ জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপ করবে। সংলাপে তাদের মতামত শুনবো, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করবো। সংলাপ থেকে কি ফলাফল আসে তা পর্যালোচনা করে ঐক্যফ্রন্ট করণীয় নির্ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।

কঠোর আন্দোলনের ডাক না দেয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সমালোচনা করছে এমন বিষয় জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে অনেক ক্ষোভ রয়েছে। তারা দ্রুত এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিবর্তন চায়। তাই ক্ষোভ থেকে তারা অনেক কথা বলতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে আন্দোলন করাটা যেমন দরকার তেমনি জেলখানায় থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বের করাও দরকার। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জেলখানায় থাকা নেতাকর্মীদের মুক্ত করার চেষ্টা করছি। এজন্য নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বানও জানান তিনি।