• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে

সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত

শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ২২ নভেম্বর ২০২০

যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আগ থেকে নেয়া হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনী প্রধানরা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ২১ নভেম্বর সেনা নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় সশস্ত্র বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত প্রতিরোধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের কাছে পরাজিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর স্বাধীন বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র গঠন হয়। স্বাধীনতার বীরত্বগাথা বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন হয়ে আসছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে তাদের সামরিক সচিবরা সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০’ উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন এবং রেডিও চ্যানেলে একযোগে প্রচার করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে তিনবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, (অব.), তিনবাহিনী প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে আমি শ্রদ্বার সঙ্গে স্বরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ নভেম্বর একটি স্মরণীয় দিন। মহান মুক্তযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালের এই দিনে তিন বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ পরিচালনা করে। তাদের সম্মিলিত আক্রমণে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে যা আমাদের বিজয় অর্জনকে তরান্বিত করে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ও বীরত্বগাথা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনী জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতাসহ জাতির গঠনমূলক কর্মকা-ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। কেবল দেশেই নয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে পেশাগত দক্ষতা, সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্ঝল করেছে। করোনাকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত থেকে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছে। এ কর্মপরিকল্পনা নিঃসন্দেহে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও গতিশীল করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধকালে

২১ নভেম্বর সেনা নৌ ও বিমানবাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের সূচনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। আমরা ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সেনা নৌ ও বিমানবাহিনীকে দেশ ও বিদেশে উন্নততর প্রশিক্ষণ প্রদানসহ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছি। জাতির পিতার নির্দেশে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপযোগী ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে ফোর্সেস গোল ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহয়াতা এবং জাতি গঠনমূলক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করছে।

দিবসটি উপলক্ষে সেনা জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধান বলেছেন, দেশ প্রেমের মহান চেতনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আজ স্বাধীন সার্বভৌম দেশের উপযোগী একটি সক্ষম বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত। পৃথিবীর ভিভিন্ন প্রান্তে সংকটময় ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরে কোভিড ১৯ মহামারী মোকাবিলাসহ আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরলসভাবে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ ও মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অঙ্গীকার বদ্ধ।

নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল বলেছেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের আপামর জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের সেনা নৌ ও বিমানবাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানিরা জল, স্থল ও আকাশ পথে অপ্রতিরোধ্য আক্রমণের সূচনা করে, যার মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের চূড়ান্ত বিজয় সুনিশ্চিত হয়। আজকের এই দিনে তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনে নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও দেশ ও জাতির উন্নয়নে সবাইকে দৃঢ় অঙ্গীকারবন্ধ হতে হবে। আমি আশা করি সশস্ত্র বাহিনী দিবসের চেতনায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নৌসদস্যরা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জল ভাবমূর্তি অব্যাহত রাখবে।

বিমানবাহিনী প্রধান মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে উঠা বিমানবাহিনীকে আধুনিক ও কার্যকর বিমানবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসংখ্য যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আজ বিমান বাহিনী একটি সুদক্ষ, সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার বাহিনীরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিমানবাহিনীর সদস্যরা দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।

নৌবাহিনীর সদস্যদের পদক

তাৎপর্যপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৪০ কর্মকর্তা ও নাবিককে শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), ৫ জন অসামান্য সেবা পদক (ওএসপি), ৫ জন বিশিষ্ট সেবা পদক (বিএসপি), ৭ জন নৌ গৌরব পদক (এনজিপি), ১০ জন নৌ উৎকর্ষ পদক (এনইউপি) এবং ১০ জন নৌ পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) অর্জন করেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল শাহীন ইকবাল ৩ জন কর্মকর্তাকে নৌবাহিনী পদক (এনবিপি) পরিয়ে দেন। এরা হলেন- ভাইস এডমিরাল এম আখতার হাবীব (অব.), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমআরএমইউ) ভিসি রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ খালেদ ইকবাল এবং সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ আবু আশরাফ। এছাড়া নৌপ্রধান ৪ জনকে অসামান্য সেবা পদক, ২ জনকে বিশিষ্ট সেবা পদক, ৪ জনকে নৌ গৌরব পদক, ২ জনকে নৌ উৎকর্ষ পদক এবং একজনকে নৌ পারদর্শিতা পদক পরিয়ে দেন। আজ নৌসদরস্থ জুপিটার হলে শান্তিকালীন এ পদক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নৌসদরের অন্য পিএসও’রা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পদকপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তা ও নাবিকদের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌঅঞ্চলের স্ব স্ব নৌ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পদক প্রদান করা হয়।