• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

সবার দুর্নীতিমুক্ত থাকা উচিত -রাষ্ট্রপতি

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক ও প্রতিনিধি, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

image

গতকাল তাড়াইল উপজেলা সদরে স্বাধীনতা ৭১ ভাষ্কর্যের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি -সংবাদ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে এক সুধী সমাবেশে সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবিরোধী যে অভিযান সূচনা করেছেন, তা প্রশংসনীয়। সবাইকেই দুর্নীতিমুক্ত থাকা উচিত। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হারও ভালো। তিনি সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির প্রতি আহ্বান

জানিয়েছেন- যেন মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন, মানুষকে সহযোগিতা করেন। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন, নির্বাচনে পাস করেই ব্যবহার পাল্টে যায়। এ রকম যেন না হয়।

রাষ্ট্রপতি গতকাল ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে রওনা হয়ে তাড়াইলের শিমুলহাটি হেলিপ্যাডে অবতরণ করে উপজেলা সদরে গিয়ে ‘স্বাধীনতা ৭১’ ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন। এরপর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে যোগ দেন। এতে স্থানীয় এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্ব করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি ছাত্রজীবনে প্রথম জনসভা করি তাড়াইলে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় তাড়াইলের পরুরা হাই স্কুল মাঠে জনসভায় আমি বক্তব্য রাখি। সেখানেই আমাকে প্রথম ‘ভাটির শার্দুল’ উপাধি দেয়া হয় এবং ব্যানারে ‘ভবিষ্যৎ মন্ত্রী’ লেখা হয়। এরপর সত্তরের নির্বাচনে তাড়াইল-ইটনা-অষ্টগ্রাম-নিকলী আসন থেকে এমএনএ পদে নির্বাচন করি। তখন মিঠামইন থানা হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় তাড়াইলের মানুষ আমাকে ভালোবেসে স্লোগান দিত, ‘গাছের আগায় পক্ষী, হামিদ ভাই লক্ষ্মী’। ওই সময় কোন কর্মসূচি শেষ করে সবাই মিলে টিনভর্তি নাবিস্কো বিস্কুট কিনে খাওয়া হতো। ওই সময়কার তাড়াইলের যারা সহকর্মী ছিলেন, তাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি তার জীবনে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা পেয়েছেন উল্লেখ করে তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান এবং নিজের জন্যও সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

রাষ্ট্রপতি স্থানীয় এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এই এলাকার সংসদ সদস্য আগে মন্ত্রী ছিলেন, এখন এমপি। তিনি এলাকার উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন, আমি সহযোগিতা করেছি, ভবিষ্যতেও করব। তিনি এলাকার নদী খননের ক্ষেত্রেও পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। রাষ্ট্রপতি তাড়াইল কলেজের একাডেমিক ভবনের ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ভালোমত লেখাপড়া করার জন্য আহ্বান জানান- যেন জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতায় ভলো করতে পারে।

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক মোতাহার। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আফজাল হোসেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া, জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজাল, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি বিকালে হেলিকপ্টারযোগে জেলা শহরে অবতরণ করে সার্কিট হাউসে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি শহরের নিজ বাসভবনে রাতযাপন করেন। রাষ্ট্রপতি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ জেলায় অবস্থান করে হাওর উপজেলা মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রামেও যাবেন। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন।