• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

সবজির বাজারে অস্থিরতা

স্থিতিশীল মাংসের দাম

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

রাজধানীতে সবজির বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া সবজির দাম এখনও বেশ চড়া। এর সঙ্গে বেড়েছে বাজারে নতুন করে আসা আরও কিছু সবজির দাম। বাজারে এখন সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নতুন আসা বরবটি।

গত সপ্তাহের মতো বাজার মানভেদে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। দামের দিক থেকে এর পরেই রয়েছে পটল ও করলা। বিভিন্ন বাজারে পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে করলা। সপ্তাহের ব্যবধানে এই সবজি দুটির দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, এসবি কলোনি কাঁচাবাজার, ফকিরাপুল কাঁচাবাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বরবটি, পটল, করলার মতো চড়া দরে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স, কচুর লতি, লাউ, ফুলকপি, শিম, ধুন্দুল। সবজিগুলোর দাম ১০০ টাকা না হলেও প্রায় কাছাকাছি রয়েছে। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি দুটির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। শিমের দাম গত সপ্তাহের মত ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি থাকলেও লাউ, ফুলকপি ও ধুন্দুলের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস। আর ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেগুন গত সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর শালগম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। তবে চড়া দামের এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, পাকা টমেটো, শশা ও গাজর। পেঁপে আগের মতোই ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। গাজর পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি। আর গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কমার তালিকা রয়েছে দেশি পেঁয়াজ।

সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। তবে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতই ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। পেঁয়াজ ও মরিচে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও মাংসের দামে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি কম। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকা ব্রয়লার মুরগির দাম নতুন করে আর বাড়েনি। আগের সপ্তাহের মতো বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে লাল লেয়ার মুরগি ও পাকিস্তানি কক মুরগি। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। আর পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। গরুর মাংসের কেজি আগের মতোই ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতো সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া। এই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা কেজি। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি। টেংরা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। বোয়াল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, শীতের সবজি শেষ হয়ে আসায় ফুলকপি, শিম, লাউয়ের দাম বেড়েছে। আর পটল, বরবটি, ঢেঁড়স, বাজারে নতুন আসায় দাম একটু বেশি। কিছুদিন গেলে এগুলোর দামও হয়তো কমে যাবে। তবে অন্য সবজির দাম কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই।