• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮, ১ আষাঢ় জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ রমজান ১৪৩৯

সব সমস্যার সমাধান রাজপথেই হবে

ফখরুল

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮

নির্দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবিসহ সব সমস্যার সমাধান রাজপথেই করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়াকে সরকার ছলচাতুরি করে আটকে রাখতে চাচ্ছে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্ট আয়োজিত ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মুক্তির দাবিতে’ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আলোচনা করার সময় শেষ হয়ে গেছে, এখন প্রতিবাদ করার সময়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দেয়া হয়েছে। কিছু মামলা দেয়া হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের সময়। তখন উদ্দেশ্য ছিল বিরাজনীতিকরণ। সুযোগসন্ধানী যারা গণতন্ত্রকে চলতে দিতে চায় না, তারাই এসব মামলা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী, আমাদের মাদার অব ডেমোক্রেসি তাকে ছলচাতুরি করে আটকে রাখার চেষ্টা করছেন। কেন ভয়ে। এতো ভয় পান যে বেগম জিয়া যদি আজকে বের হন তাহলে আপনারদের ওই যে মসনদ, এই মসনদ জনগণের স্রোতে ভেসে চলে যাবে। এই কারণে আপনারা তাকে আটকিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বেশি দিন কারাগারে থাকবেন না, জনগণ তাকে মুক্ত করবে। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করব অতি দ্রুত।

পাকিস্তানের সময়ই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এসব শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছে, দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওলানা হামিদ খান ভাসানী থেকে শুরু করে শেখ মুজিব পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, সেই দলটি এখন গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করছে। সারাদেশে নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও কারাগারে নেয়া হচ্ছে। বিএনপিতে ভাঙন সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন কৌশলে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ছাত্রনেতা জাকির হোসেন মিলনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডের নামে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, রিমান্ডে নিয়ে তারা কি করল যে মিলনকে লাশ হয়ে ফিরল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিতে হলো মিলনকে। এ রকম বহু মিলন জীবন দিয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া।

এদিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া তেজগাঁও ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল তার লাশ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মিলনকে গাজীপুরের পুবাইলে দাফন করা হবে।