• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ৭ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

পিয়াজ ক্রয়সীমায়

সপ্তাহের ব্যবধানে আরও ৩০ টাকা কমেছে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

image

দেশের বাজারে পিয়াজের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে পৌঁছেছে। এক সাপ্তাহ ব্যবধানে পিয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৫০ টাকা হয়। করোনা আতঙ্ক বাজারেও তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফকিরাপুল, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল কারওয়ান বাজার গিয়ে দেখা যায়, পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, যা গত সাপ্তাহে ছিল ৭০-৭৫ টাকা। আর আমদানি করা ভালো মানের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-৯০ টাকা। এ দিকে আমদানি করা চীনা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-১৯০ টাকা কেজি। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। আর দেশি রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

পিয়াজ-রসুনের এই দাম কমার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ভারত পিয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া ও বাংলাদেশের পিয়াজ সারাদেশে পাওয়ার ফলে পিয়াজের দাম কমেছে। তিনি আরও বলেন, চাষিরা ৩০ টাকার নিচে বিক্রি হলে লোকসান হতে পারে। কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটল ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, সিম ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, করলা ৫০ টাকা থেকে ৬০, উস্তা ৭০ টাকা থেকে ৮০ টকা, বেগুন কেজি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, গাজর ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, জালি কুমড়া ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বেশিরভাগ বাজার। লাউ প্রতি পিছ ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, আলু ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, বড় কচু ৬০ টাকা, বিট ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, শসা ৫০ টাকা সিমের বিচি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। এইদিকে শাকের বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে লাল শাক ১০ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা ২৫ টাকা, পালং শাক ১০ টাকা, প্রতি আঁটি (মোড়া) কচু শাক ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা, মূলা ১৪ টাকা।

শ্যামবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, করোনা আতঙ্ক থাকলে সবজির দাম তেমন একটা বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে রমজানে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এক সাপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে গরু, মহিষ ও খাসির মাংসের দাম। কেজিতে ২০ টাকা কমে গরুর মাংসের দাম বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ টাকা, আর ৩০ টাকা কমে মহিষের দাম বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা। এছাড়া কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে খাসির মাংস ৯০০ টাকা, বকরি ৫০ টাক বেড়ে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম অপরিবতিত রয়েছে মুরগি ও ডিমের বাজারেও। প্রতিকেজি বয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, লেয়ার ২০০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৮০ টাকা, সোনালি ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে।

মাছ-মাংসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রাতার মধ্যে দেখা দিয়েছে ভিন্ন মত। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মাংসের সংকট হওয়ায় দাম বাড়তি। তবে ক্রেতারা বলছেন, রমজানের আগেই এখন থেকে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন বিক্রেতারা। বাজার মনিটরিং না হলে রমজানে অস্থিরতা তৈরি হবে। এদিকে মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছুটা দাম বদ্ধি পেয়েছে। রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০-৫৫০ টাকা। তেলাপিয়া ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, শিং ৩৫০ টাকা থেকে ৫৫০, শোল মাছ ৫০০ টাকা থেকে ৮০০, পাবদা ৪০০ টাকা থেকে ৫০০, টেংরা ৪৫০ টাকা থেকে ৬০০, নলা ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজারে আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল, চাল ও মসলা। খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা লিটার। খোলা সাদা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা লিটার। অপরিবর্তিত রয়েছে সরিষার তেলের দাম। খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার। বাজারে ৫০০ টাকা বদ্ধি পেয়ে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৫০০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকা। গত মাস এলাচি বিক্রি ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা বর্তমানে জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে।