• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান আর নেই

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৭ মে ২০২০

image

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। আজাদ রহমান অনেক দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজাদ রহমান ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান একাধারে সংগীত পরিচালক, শিল্পী, গীতিকার, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা। তিনি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেয়ালে অনার্স সম্পন্ন করেন। সেখানে থাকাকালীন তিনি ফোক গান, কীর্তন, ধ্রুপদী সংগীত, খেয়াল, টপ্পা গান, তুমড়ি, রবীন্দ্র সংগীত, অতুল প্রসাদের গান, দিজেন্দ্র গীতি, রজনী কান্তের গান চর্চা করেন। একই সময়ে তিনি একজন খ্রীস্টান পুরোহিতের কাছ থেকে পিয়ানো বাজানো শেখেন। আজাদ রহমান পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।

কলকাতার জনপ্রিয় বাংলা ছবি ‘মিস প্রিয়ংবদা’র সংগীত পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্রের গানে তার সম্পৃক্ততা ঘটে। এই ছবিতে তার সংগীত পরিচালনায় গান গেয়েছিলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরতী মুখার্জি। সেটা ১৯৬৩ সালের কথা।

বাংলাদেশে তিনি প্রথম সংগীত পরিচালনা করেন বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ ছবিতে। এরপর বাদী থেকে বেগম, এপার ওপার, পাগলা রাজা, অনন্ত প্রেম, আমার সংসার, মায়ার সংসার, দস্যুবনহুর, ডুমুরের ফুল, মাসুদ রানা, রাতের পর দিনসহ প্রায় সাড়ে তিনশ’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে ভালোবাসার মূল্য কতো সেতো আমি জানি না, ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে তার কণ্ঠে।

বাংলা একাডেমি থেকে আজাদ রহমানের লেখা দু’টি বাংলা খেয়ালের বই প্রকাশিত হয়েছে। বই দুটি হচ্ছে ‘বাংলা খেয়াল-প্রথম খ-’ ও ‘বাংলা খেয়াল-দ্বিতীয় খ-’। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কিত প্রথম চলচ্চিত্র তিনিই নির্মাণ করেন। ছবিটির নাম ‘গোপন কথা’।

তিনি যাদুর বাঁশি (১৯৭৭) ও চাঁদাবাজ (১৯৯৩) ছবিতে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক এবং শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।