• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ২০ জিলকদ ১৪৪১

আজ শুরু হচ্ছে

ষোড়শ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

প্রদর্শিত হবে ৬৪ দেশের ২১৬টি চলচ্চিত্র

    সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৮

image

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন-সংবাদ

বছর ঘুরে আবারও রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ষোড়শ ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৮’। আজ বাংলাদেশসহ ৬৪টি দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে শুরু হচ্ছে ৯ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবের প্রতিপাদ্য ‘ভালো ছবি, ভালো দর্শক, সমৃদ্ধ সমাজ’। বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

উৎসবে বাংলাদেশসহ ৬৪টি দেশের ২১৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবে বাংলাদেশের পাশাপাশি আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ভুটান, বুলগেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, বোতসোয়ানা, কানাডা, চীন, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, মিশর, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জর্জিয়া, জার্মানি, ঘানা, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, ইটালি, জাপান, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কাজাখাস্তান, কসোভো, মাদাগাস্কার, মালেয়শিয়া, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, মায়ানমার, নেপাল, নরওয়ে, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রাশিয়া, সার্বিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিন আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তাজাকস্থান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেইন, ইয়েমেন ও উজবেকিস্তানের চলচ্চিত্র :চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

গতকাল ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামান। তিনি জানান, তুরস্কের নির্মাতা কাজিম ওজের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘জার’ এবারের উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও সেমিনারের ভেন্যুগুলো হলো জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন ও প্রধান মিলনায়তন। এছাড়াও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, রাশিয়ান কালচার সেন্টার ও বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি আরও বাড়ছে। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ব্যাপ্তি আরও বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া আয়োজন নিয়ে কথা বলেন উৎসবের চিফ প্রোাগ্রামার জোরেহ জামিন, উৎসব আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান কিশোওয়ার কামাল ও আয়োজক কমিটির সদস্য ম. হামিদ । সভাপতিত্ব করেন উৎসব আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে উৎসব চলাকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিয়মিতভাবে মিট দ্য প্রেসের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে চলচ্চিত্রকার, প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এ পর্বটি চলবে ১৫ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দিন ১৫ তারিখ বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন উপমহাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন এবং তার সঙ্গে থাকবেন ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা মধুরিমা সিনহা।

আয়োজকরা জানান, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল উইমেন ফিল্ম মেকারস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের নারী চলচ্চিত্র নির্মাতারা এ পর্বে তাদের চলচ্চিত্র অভিযাত্রার গল্পের পাশাপাশি নারী নির্মাতাদের নানা প্রতিবন্ধকতার গল্পও শোনাবেন। এবারের উৎসবে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে এশিয়ান ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসেম্বলি কনফারেন্স। যাতে এশীয় অঞ্চলের ১২টি দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকাররা অংশ নেবেন। উৎসবের অংশ হিসেবে ৫ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর পাঠশালায় শুরু হয়েছে অষ্টম ঢাকা আন্তর্জাতিক সিনে ওয়ার্কশপ। উৎসবে যোগ দিতে আসা বিদেশি চলচ্চিত্রকাররা এখানে বিভিন্ন সেশনে কর্মশালা পরিচালনা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের উৎসবে এশিয়ান কম্পিটিশন বিভাগে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫টি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা করছে। এ বিভাগে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতাকে প্রদান করা হবে ১ লাখ টাকা। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি এ বিভাগে পুরস্কৃত করা হবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক ও চিত্রনাট্যকারকে।

ফরাসি নারী নির্মাতা জুলি বার্টুসেলি এবং সিলিনি সিএমার ৭টি ছবি দিয়ে সাজানো হবে রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগটি। এই বিভাগের সবগুলো চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে। বাংলাদেশ প্যানোরোমা বিভাগে চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠন ফিপরেসি এই বিভাগে সমালোচক পুরস্কার দেবেন। বিভাগের ১০টি চলচ্চিত্র থেকে ১টি চলচ্চিত্র শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র এবং একজন নির্মাতা পাবেন শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার।

৪১টি সিনেমা নিয়ে সাজানো ‘সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বিভাগ থেকে দর্শক জরিপে একটি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে। ১১টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে চিলড্রেন্স বিভাগটি। গণগ্রন্থাগারে শওকত ওসমান মিলনায়তন ও জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে এই চলচ্চিত্রগুলো। এই বিভাগ থেকে একটি চলচ্চিত্র পাবে ‘বেস্ট জুভেনাইল অডিয়েন্স বাদল রহমান অ্যাওয়ার্ড’। রাজশাহীর আড়ানিতে লাল মাফলার দিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা রুখে দেয়া দুই শিশু বিজয়ী নির্মাতার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেবেন। ২৯টি চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হবে স্পিরিচুয়াল ফিল্মস বিভাগ। রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো থেকে একটি শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র এবং একটি শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার পাবে। ৫০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হচ্ছে উইমেন ফিল্ম মেকারস সেশন, যার সবগুলো প্রদর্শিত হবে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে। এ বিভাগ থেকে একটি শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র, একটি শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রে পুরস্কার দেয়া হবে। ৫২টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম বিভাগ। জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে প্রদর্শিত হতে যাওয়া এ বিভাগে রয়েছে শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার।

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ১৯৭৭ সাল থেকে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলেও ১৯৯২ সাল থেকে দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনায় আয়োজন করে চলেছে এদেশের সর্ববৃহৎ এবং জমকালো চলচ্চিত্র উৎসব। প্রথমদিনে দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনায় ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব পরিচালিত হলেও গত বছর থেকে উৎসবটি প্রতিবছরই ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় উৎসবের আয়োজক কমিটি।