• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১

শ্রীলঙ্কার হামলা যেন দেশের জঙ্গিদের অনুপ্রাণিত না করে সে ব্যাপারে তৎপর আছি

সিটিটিসি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশে ঝিমিয়ে পড়া জঙ্গিরা প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার হামলা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কোন সহিংস কর্মকান্ড যেন না ঘটাতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। তবে বাংলাদেশে জঙ্গিদের এখন বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই। গতকাল এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান-অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সিটিটিসি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিনি আরও বলেন, এক দেশে যখন জঙ্গি হামলা হয় তখন অন্য দেশে জঙ্গিরা উদ্বুদ্ধ হয়। তাই শ্রীলঙ্কার জঙ্গি হামলা থেকে বাংলাদেশের জঙ্গিরা অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে।

বাংলাদেশে আইএস’র খলিফা নিয়োগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আইএস’র নিজস্ব দাবি। বাংলাদেশে আইএস বা এর কোন খলিফার অস্তিত্ব নেই। তবে মাইগ্রেটেড কোন বাংলাদেশি (যে বাংলাদেশ থেকে গিয়ে অন্য দেশের নাগরিক হয়েছেন) যে হয়তো আইএস-এ অন্য দেশ থেকে গিয়ে যোগদান করেছে তাদের মধ্যে কাউকে আইএস’র খলিফা করে দেয়া হতে পারে। বাংলাদেশে কোন জঙ্গি আইএস’র সঙ্গে যোগাযোগ অথবা আইএস’র হয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর মতো কোন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। আমাদের দেশে জঙ্গি কার্যক্রম, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমনে বিশ্বের অন্য দেশের সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমম্বয় রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সমন্বয় আরও মজবুত হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। কোন দেশ, জাতি বা ধর্মের সঙ্গে এটাকে সম্পৃক্ত করা যাবে না। উন্নয়নশীল, অনুন্নত এবং উন্নত কোন দেশই এ সন্ত্রাসের থাবা থেকে নিরাপদ নয়।’

বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি সংগঠন আইএস-এ যোগ দেয়া সদস্যরা দেশে ফিরতে চাইলে তাদের দেশে ফেরত নেয়া হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশে ফিরতে হলে তাদের নতুন করে পাসপোর্ট আবেদন করতে হবে নতুবা ট্রাভেল ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। আমরা সিরিয়াসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে যখন পাসপোর্ট আবেদন পাচ্ছি সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে তাদের পাসপোর্ট দিচ্ছি। তাই আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে আসা সম্ভব নয়। কেউ বাংলাদেশে ফেরত আসতে চাইলে বিমানবন্দরেই ধরা পড়বে।

কারাগারে জঙ্গিবাদ ছড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যাদের নামে মামলা হয়, তাদের পৃথক কারাগারে রাখা হয়। শুধুমাত্র কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে যখন তাদের আদালতে নেয়া হয়, তখনই অন্য আসামিদের সঙ্গে দেখা হয়। এর বাইরে অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ নেই। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিচারের জন্য ২টি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইবুন্যাল গঠন করা হয়েছে। তাদের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ধর্মভিত্তিক জঙ্গিবাদের আমদানিকারকরা চিহ্নিত হয়েছে কিনা-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েকজন হয়ত পলাতক রয়েছে তবে সবাই চিহ্নিত।

রোহিঙ্গাদের জঙ্গিবাদের জড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়ে সাংবাদিকদের করা অপর প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা, তবে আমাদের দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থা তাদের তীক্ষè নজরদারিতে রেখেছে। তাদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর কোন সুযোগ নেই। তবে আমাদের দেশে রোহিঙ্গারা যদি দীর্ঘদিন থাকে সেক্ষেত্রে তারা উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়তে পারে। তখন এটি আমাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।

অনুষ্ঠানে ক্র‌্যাবের সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক দীপু সারওয়ার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমানসহ ক্র‌্যাব নেতৃবৃন্দ ও সিটিটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।