• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ মহররম ১৪৪২, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭

ডিএনসির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

শ্যুট অন সাইট ছাড়া মাদক নিরাময় অসম্ভব

গণশিক্ষামন্ত্রী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৩ জানুয়ারী ২০১৮

প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের তোপে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূল করা দরকার। প্রথমত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এটিকে ১ নাম্বার সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর কে কার কি সেটা বিবেচনা না করে সরাসরি ‘শ্যুট অন সাইট’ (দেখামাত্র গুলি)-এর মাধ্যমে নির্মূল করতে হবে। তা না হলে মাদক নিরাময় সম্ভব না বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সি, কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. অরুপরতন চৌধুরী ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এমদাদুল হক প্রমুখ। অতিথিরা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এবং কেক কেটে ডিএনসির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। ‘মাদক বিনোদনের মাধ্যম নয়, আত্মহননের পথ’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের পর মাদক বিরোধী একটি র‌্যালি করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, একটি বাহিনীকে আপনি যতই শক্তিশালী করুননা কেন, মাদক নিরাময় হবে না। এমনকি ১ লাখ আলাদা পুলিশ নিয়োগ করলেও নিমূল হবে না। আবার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতি উপজেলায় ৫টি, প্রতি ইউনিয়নে ১টি করে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করলেও কাজ হবে না। অথচ ৩ মাস আলাপ-আলোচনা করে মাদককে ১ নাম্বার সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে ১০টি উপজেলায় ‘শ্যুট অন সাইট’ চালানো হোক। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি মাদক নির্মূল হয়ে যাবে। এছাড়া যে ব্যবস্থাই নেন ১০০ বছর পরও মাদক নির্মূল সম্ভব হবে না।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বর্তমানে মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধির মূল কারণ সমাজ থেকে মূল্যবোধ, নৈতিকতা রোধ পাওয়া। কঠোর আইনের পাশাপাশি এর ক্ষতিকর দিকগুলো পাঠ্যবইয়ে সংযুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়াও পরিবার-সমাজ তথা সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে মাদকমুক্ত জাতি হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে।

সুরক্ষা সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক নির্মূলে সবচেয়ে দরকার সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। ডিএনসির মাত্র ১ হাজার ৭০০ জনবল দিয়ে মাদক নিরাময় অসম্ভব। এর জন্য সব বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ইয়াবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- রেখে মাদক আইন সংশোধন করা হচ্ছে। দেশে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে কক্সবাজারে বিশেষ অঞ্চল গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

আইজি-প্রিজন ইফতেখার উদ্দিন বলেন, কারাগারে ২৩ হাজার বন্দী মাদকাশক্ত। যা দেশের মোট মাদকাশক্তের ৪ ভাগ। একমাত্র সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে মাদকাশক্তদের বর্জন করলেই এটি নিরাময় করা সম্ভব। ডিএনসির মহা-পরিচালক বলেন, দেশে ৭০ লাখ মাদকাসক্ত। মাদক ব্যবসায়ীরাও প্রভাবশালী। নিরস্ত্রভাবে এসব প্রভাবশালীদের মোকাবিলা করা কঠিন। আমাদের কোন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস না থাকায় নাকের ডগা দিয়ে মাদক পাচার হচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত গাড়িও। এসব সুবিধাসহ প্রস্তাবিত ৫ হাজার জনবল কাঠামো বাস্তবায়ন হলে অধিদফতরের পক্ষে কাজ করা সহজ হবে। এছাড়াও অধিদফতরের ৩৭টি সেবা অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ বছর ৫০জন মাদকের গডফাদারকে গ্রেফতার করার হুঁশিয়ারী দেন তিনি।