• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শেখ হাসিনার সভাস্থলে বোমা পুঁতে রাখার মামলা ২০ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি

আগামী ১৭ জানুয়ারি মামলার সর্বশেষ সাক্ষ্যগ্রহণ

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ ও মাহবুবুল হক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশস্থলে বোমা পুতে রাখার মামলাটি গত ২০ বছর ধরে চলছে। আগামী ১৭ জানুয়ারি মামলাটির সর্বশেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, মামলাটি ২০১৮ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারের জন্য আসে। সংবাদকে সর্বশেষ সাক্ষী মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সিআইডির আবদুল কাহার আকন্দ (অবসর প্রাপ্ত)। আগামী ১৭ জানুয়ারি সর্বশেষ সাক্ষীর দিন ধার্য করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিচার কার্য শেষ হলে রায় হবে বলে তিনি আশাবাদী।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০০০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানায় ওই সময় সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান বাদী হয়ে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলাটি এখন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারাধীন আছে। আলোচিত এ মামলাটির এখন চার্জশিটভুক্ত আসামি ১৫ জন। তার মধ্যে মুফতি আবদুল হান্নানের অন্য মামলা কার্যকর হওয়ায় বাকি ১৪ জন আসামির বিচারকার্য চলছে। মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলো- আজিজুল হক ওরফে শাহনেওয়াজ, মো. লোকমান, ইউছুফ ওরফে মোছহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, মোছাহেব হাসান ওরফে রাশু, শেখ মো. এনামুল হক (পলাতক), মো. মফিজুর রহমান, মাহমুদ আজহার, মো. রাশেদুজ্জামান, মো. তারেক, মো. আবদুল ওয়াদুদ শেখ ওরফে হাসান, মো. আনিসুল ইসলাম, সারোয়ার হোসেন মিয়া। আর জামিনে থাকা আসামি মাওলানা আমিরুল ইসলাম ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

আদালত থেকে জানা গেছে, ২০০০ সালে ১১ জুলাই রাতে যেকোন সময় আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী (বোমা মামলায় ফাঁসি কার্যকর) সহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা করে। তারা সরকারের উপর জনগণের আস্থা সংকট তৈরি করে এবং বৈধ সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে বোমা কোটালী পাড়া শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে সমাবেশ স্থলের পূর্বদিকে হেলিপ্যাডের পার্শ্বে মাটির নিচে বোমা পুতে রাখছে।

বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে ১৯৯৯ সালে ২৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জের পৌরপার্কে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ৫০ জন বক্তব্য রাখেন। বক্তরা বলেছিল বাংলাদেশে অচিরে তালেবানী সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। গোপালগঞ্জের মাটি থেকে আন্দোলনের সূচনা হবে বলে জঙ্গিরা ঘোষণা দেন। বক্তরা গোপালগঞ্জের মাটিতে হরকাতুল জেহাদের সদস্য হয়েছেন। তারা শপথ নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আফিগানিস্তানে অস্ত্র ও বিষ্ফোরক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তালেবান আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী জঙ্গি আসামিদের সহযোগিতায় সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। শুধু তাই না তারা দেশে তালিবানী সরকার গঠনের চেষ্টা করেছিল।

আদালতের এজার থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ স্থলে বোমা বিষ্ফোরণ ঘটনার আগে জঙ্গি আসামি সাইফুল্লাহকে পর্দার কাপড় ও একটি সেলাই মেশিন দিয়ে কোটালীপাড়া ভাড়া করা দোকান ঘরে পাঠানো হয়। বোমা বিষ্ফোরণ ঘটনোর লোকজনকে ওই ঘরে থাকতেও দেয়া হয়। ২০০০ সালে ১৯ জুলাই সন্ধ্যার কিছু আগে মুফতি হান্নানের কারখানায় ব্যবহ্নত একটি প্রাইভেট কারযোগে (যার নম্বর ঢাকা-গ-৯৯৬১। দুইটি বোমা ড্রাইভার রাশেদ ওরফে আবুল কালাম ওরফে শিমুল, মুফতি হান্নান ও ইউসুফ ও তারেক মিলে কোটালীপাড়ায় নিয়ে গিয়েছিল। রাতে প্রধানমন্ত্রীর সভা মঞ্চ সংলগ্ন ৪০ গজ পূর্বদিকে এবং আরেকটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোমা হেলিপ্যাড মাটির নিচে পুতে রাখে। বোমা দুটিতে সংযুক্ত তামার তারের অন্য অংশ একটি পুকুর ঘাটের কাছে রেখেছিল। যা রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ। আলোচিত এ মামলার ১৪ জন আসামির মধ্যে ৭ জন জেলে। ৫ জন পলাতক ও ২ জন জামিনে আছে।