• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

পাঁচ দফা দাবিতে

লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের

আমরণ অনশনে তিন শিক্ষার্থী

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

সেশনজট নিরসন, ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশ, স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবনসহ পাঁচ দফা দাবিতে নীলক্ষেত মোড় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধের পর সড়ক থেকে উঠে গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে আজ থেকে লাগাতার আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। একই দাবিতে আমরণ অনশন করছেন ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থী।

গতকাল দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবু বকর। তিনি জানান, আজকের মধ্যে পাঁচ দফা দাবি পূরণের ঘোষণা না দেয়া হলে বুধবার বেলা ১১টা থেকে নিউমার্কেট সড়কে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে পূর্বঘোষিত পাঁচ দফা দাবি আদায়ে গতকাল সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে এসে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হচ্ছে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সব বিভাগের ফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে; ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্সের সব বর্ষের ফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে; ৭ কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন; প্রতি মাসে দু’দিন করে ৭ কলেজের প্রতিটি বিভাগে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে এবং সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থাকাকালে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। হঠাৎ করে রাজধানীর সরকারি ৭ কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পর তারা ভেবেছিলেন সেশনজট কমবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানও বাড়বে। এর কিছুই হয়নি। তারা বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আরও সেশনজটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এর সঙ্গে ফলও তারা ৯০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে পারছেন না। ত্রুটিযুক্ত ফলও তারা প্রকাশ করছেন। শিক্ষার্থীরা এসবের সমাধান চান। তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এর আগেও তাদের অনেক আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এর কোনো বাস্তবায়ন তারা দেখেননি। তার অফিসে গিয়েও অনেকবার স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এতে কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের অধীন পরিচালিত যেসব সেশন শুরু হয়েছে, এতে জট নেই। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালে যেসব সেশন আমাদের অধীন দেয়া হয়েছে, লোকবল কম থাকায় তা পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে অচিরেই তা কেটে যাবে। তিনি বলেন, ছাত্ররা না বুঝে আন্দোলন করলেই হবে না। আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

আমরণ অনশনে ৩ শিক্ষার্থী : এদিকে পাঁচ দফা দাবিতে আমরণ অনশন করছেন ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা কলেজের গেটের সামনে অনশন শুরু করেন তারা।

আমরণ অনশনে যাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আবু নোমান রুমি, ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সাকিব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম। তারা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত পাঁচ দফা দাবি মানা না হবে, ততক্ষণ আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এসে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেই অনশন তুলে নেবেন তারা।

উল্লেখ্য, শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি কাজী নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ। একই বছর পরীক্ষার রুটিনের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে দুই চোখ হারায় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান।