• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমজান ১৪৩৯

র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার জাবি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, জাবি

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেধে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সিনেটের আওয়ামীপন্থিদের একাংশ। গতকাল সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘সিনেট সদস্যবৃন্দ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’র ব্যানারে এক অবস্থান কর্মসূচিতে এ সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। পরে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে আলাদাভাবে আরেকটি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। আলাদা দুটি অবস্থান কর্মসূচির নেতৃত্ব দানকারী অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে র‌্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে সেশন জট, আবাসন সঙ্কট, মাদকসেবনসহ নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জাকসু নির্বাচন এবং বিরাজমান অরাজক পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে অবিলম্বে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি। অবস্থান কর্মসূচিতে অধ্যাপক অসিত বরণ পাল, অধ্যাপক খবির উদ্দিন, অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ, অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা, সহযোগী অধ্যাপক ছায়েদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র ফ্রন্ট

এদিকে র‌্যাগিং বন্ধের দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মিছিল শেষে র‌্যাগিং বন্ধে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় করে তারা। এর আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক বলেন, পরিচিত হওয়া ও ভদ্রতা শেখানোর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হলের সিট বণ্টনের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ

চলমান র‌্যাগিং প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ। গত শনিবার কলা ও মানবিকী (নতুন) ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ প্রতিরোধের ডাক দেন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক সাঈদ ফেরদাউস লিখিত বক্তব্যে বলেন, জবাবদিহিতাহীন সংস্কৃতি ও অগণতান্ত্রিক চর্চার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচিত হওয়ার নামে নিপীড়ন চালানো হয়। ছাত্র-শিক্ষকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য জাকসুসহ উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন দেয়া জরুরি। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ও হল প্রশাসনে অনুগ্রহপুষ্ট ও আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। যার ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিয়েছে। আর এ অবস্থায় নিপীড়করা র‌্যাগিংকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করছে। নিজেদের ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রকৃত অর্থে জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যাম্পসে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষক সমিতি

গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে র‌্যাগিং প্রতিরোধমূলক এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদ আহমেদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, র‌্যাগিং নামক অপসংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের শুভ মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যগিং বন্ধ করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। তারই অংশ হিসেবে গত রোববার রাত প্রতিটি হলে গিয়ে পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের সঙ্গে কথোপকথন করেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সিনিয়র শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে নবীন শিক্ষার্থীর মানসিক ভারসাম্য হারানোর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রাহমান কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। মিজানুরের বন্ধুরা জানায়, গত শুক্রবার দুপুরে বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের ৪৭তম ব্যাচের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নামে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।