• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

রোহিঙ্গাদের পঞ্চম দফা সহায়তা দিল ভারত

সংবাদ :
  • কূটনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

রোহিঙ্গাদের জন্য পঞ্চম দফায় ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে ভারত। গতকাল কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ এই ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রতাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদারসহ দেশি-বিদেশি এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এবার পঞ্চম ধাপে ভারতের দেয়া ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্যাডেলযুক্ত এক হাজার সেলাই মেশিন, ৩২টি অফিস তাঁবু, ৩২টি উদ্ধার সরঞ্জাম ও ৯৯টি ফ্যামেলি তাঁবু। ত্রাণ সহায়তার এই চালানটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত বছর ভারত সফরের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতির অংশ বলে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের কক্সবাজারের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের মানবিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করতেই এই ত্রাণ সামগ্রীগুলো পাঠানো হয়েছে। এই ত্রাণসামগ্রী মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মহিলাদের দক্ষতা বিকাশে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের শিবিরগুলোতে অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পঞ্চম চালানটি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া একটি প্রক্রিয়ার অংশ, যখন ভারত সরকার মানবিক সহায়তার প্রথম চালান সরবরাহ করেছিল। ৯৮১ মেট্রিক টনের এই ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিনি, লবণ, রান্নার তেল, চা, নুডলস, বিস্কুট, মশারি ইত্যাদি।

২০১৮ সালের মে মাসে দ্বিতীয় দফায় ভারত ৩৭৩ মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করে। যার মধ্যে ছিল ১০৪ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধ, ১০২ মেট্রিক টন শুঁটকি, ৬১ মেট্রিক টন শিশুখাদ্য এবং বর্ষা মৌসুমে ব্যবহারের জন্য ৫০ হাজার রেইনকোট ও ৫০ হাজার জোড়া গামবুট।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তৃতীয় চালানটি সরবরাহ করা হয়, যেখানে ভারত ১ দশমিক ১ মিলিয়ন লিটার সুপার কেরোসিন তেল এবং ২০ হাজার কেরোসিন স্টোভ হস্তান্তর করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চতুর্থ ধাপে পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার কম্বল, দুই লাখ উলের সোয়েটার এবং ৫০০টি পরিবেশবান্ধব সৌর সড়কবাতি।

২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে মায়ানমার সেনাবাহিনী নিধনযজ্ঞ শুরু করলে বাংলাদেশ অভিমুখে শরণার্থীদের ঢল নামে। এ পর্যন্ত এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি বলে হিসাব বিভিন্ন সংস্থার। রোহিঙ্গাদের সসম্মানে প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় কাজ করছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী হিসেবে ভারত যে কোন বাধা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে সদা প্রস্তুত বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উদারতা ও মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ভারত।