• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ ১৪৩৯

আলোচনা সভায় বক্তারা

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কৌশলী হতে হবে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রবিবার, ০৪ মার্চ ২০১৮

মানবতার জন্য রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হলেও বর্তমানে এই সমস্যা সমাধানে সরকারকে কৌশলী হতে হবে। গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে কোস্ট ট্রাস্ট এবং কক্সবাজার সিএসও অ্যান্ড এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই মন্তব্য করেন। বক্তার বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সরকার অথবা কোন দাতা সংস্থার পক্ষে এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা।

‘বলপূর্বক স্থানচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের (এফডিএমএন) ত্রাণ কার্যক্রমে ‘গ্রান্ড বারগেইন’ নীতিমালাসমূহের অনুরণ এবং স্থানীয়করণের দিকে পথযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ড. হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফ’র কো-চেয়ার আবু মুর্শেদ চৌধুরী এবং কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল অফিস অফ মাইগ্রেশন-এর ডেপুটি চিফ আবদুস সাত্তার, জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধির কার্যালয়ের হেনরি গ্লোরিয়েং ও লেইন ক্রেইনক, কানাডা দূতাবাসের আরাশ, ইসিএইচও-এরমিজ সুরঙ্গা, নেদারল্যান্ড দূতাবাসের জোরেন স্টিগস মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহীন আনাম, ডিজাস্টার ফোরামের গওহর নঈম ওয়ারা, অক্সফার্মের এমবি আখতার, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের একেএম মুসা, খ্রিস্টিয়ান এইডের শাকিব নবী এবং ডিএফআইডি-এর ওমর ফারুক বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় জনসাধারণ ও পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা কাটিয়ে উঠতে সরকারকে সহায়তা করতে হবে। রোহিঙ্গারা প্রথমে গাছ কেটে লাকড়ি বানিয়েছে। এখন মাটির নিচ থেকে গাছের শেকড় উঠিয়ে জ্বালানি চাহিদা মেটাচ্ছে। তাছাড় সেখানে দৈনিক শ্রমের মূল্য ৩৫০ থেকে নেমে ১০০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। সবচাইতে বেশি সমস্যা হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। কাজেই আমরা মানবতার জন্য রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও বর্তমানে নিজেদের প্রয়োজনের সরকারকে কৌশলী হয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই সমস্যা সরকার অথবা কোন দাতা সংস্থার একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এজন্য সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হবে। বক্তারা এনজিও’র কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, মানবিক সংকটে সাড়া প্রদান বা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশি এনজিওরা যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে। তাদের বিদেশি বিশেষজ্ঞের এখন খুব কমই দ্বারস্থ হতে হয়। তবে সব স্থানীয় এনজিও দেরই মানবিক সংকট মোকাবেলায় আলাদা বিভাগ থাকা উচিত।

আলোচনা সভায় রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে গ্রান্ডবারগেন প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে সে বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার সার সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন জিএমআই/নেভিগেশন ৩৬০ এর কোয়েন রাডভ্যান ব্রাবান্ট এবং কোস্ট ট্রাস্টের মো. মজিবুল হক মনির। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় সক্ষমতাকে অবহেলা করা, অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়, যথাযথ সমন্বয়ের অভাব, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অধিক বেতনে বিদেশি এনজিওতে কর্মী নিয়োগ দেয়া, স্থানীয় এনজিদের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং স্থানীয় প্রতিবেশ-পরিবেশের ওপর গুরুত্ব না দেয়ার সমালোচনা করা হয় তাদের উপস্থাপনায়। তারা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ের ভূমিকায় আরও বেশি সুযোগ দেয়া এবং স্থানীয় জন সাধারণ ও স্থানীয় পরিবেশের ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার আহ্বান জানান।