• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলকদ ১৪৪১

রুট পারমিটের শর্ত মানে না বাস মালিকরা

‘ছয় কোম্পানির বাস আত্মঘাতী হবে’

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন রুটে ৬টি কোম্পানির বাস চালানোর সিদ্ধান্ত ‘আত্মঘাতী’ হবে বলে মনে করছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) সহ কয়েকটি সমমনা সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, ৬টি কোম্পানির মাধ্যমে বাস চালানো হলে মালিকদের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী দানবীয় আকার ধারণ করবে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনগুলোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘সড়ক দুর্ঘটনা, ভাড়াসহ যাত্রী দুর্ভোগ ও যানজট কমানোর পূর্বশর্ত রুট পারমিটের শর্ত মোতাবেক পর্যাপ্ত বাস নিশ্চিত কর’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। মানববন্ধনে আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, ঢাকার রুটগুলো কোম্পানির মাধ্যমে আসলে সারাদেশ তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে। অনেকগুলো কোম্পানি থাকার পরও আমরা দেখি কিছু কোম্পানি সরকারের সিদ্ধান্ত, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাকেও বৃদ্ধাগুলি দেখায়। কোম্পানির পরিমাণ কমিয়ে অল্প কয়েকটি করা হলে তারা আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে যাবে। তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে পুরো যাতায়াত ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, সম্পাদক এমএ ওয়াহেদ, বানিপার সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের আমির হাসান মাসুদ, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের নাজিম উদ্দিন, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশনের শহিদুল্লাহ, ঢাকা ইয়ুথ ক্লাবের সোহাগ মহাজন, যুব সমিতির আক্তার হোসেন, বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, নাসফের সেলিম, কবি পরিষদের ইব্রাহিম হোসেন, সেভ দ্য রিভার্সের শাকিল ওসমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, পর্যাপ্ত মানসম্মত বাস না থাকায় অ্যাপসভিত্তিক যান তথা পাঠাও, উবারসহ অন্যান্য যানবাহনের ব্যবহার ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে- বাড়ছে যানজট ও নৈরাজ্য। বিভিন্ন রুটে যে পরিমাণ বাস চালানোর কথা তা চালানো হচ্ছে না। একটি সিন্ডিকেট পুরো পরিবহন সেক্টরকে দখল করে নিয়েছে। এই পরিবহন সিন্ডিকেট হাইকোর্টের রুলকেও পরোয়া করে না। তাদের জিম্মায় চলে যাচ্ছে কোম্পানিগুলোর বাস। যে কারণে যাত্রীদের সঠিক সেবা তারা প্রদান করতে পারছে না।

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি যতসংখ্যক বাস চলাচলের শর্তে রুট পারমিট নেয়, তার চেয়েও অনেক কমসংখ্যক বাস রাস্তায় চালায় তারা। মানের দিক থেকেও এ বাসগুলো অনেক নিম্নমানের ও ঝুঁকিপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে বাসের সংখ্যা কমিয়ে সংকট আরও বৃদ্ধি করে। পিক আওয়ারে বা বৃষ্টির সময় যাত্রী দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। যাত্রীদের চরম দুর্ভোগকে কোম্পানিগুলো সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে নানা অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রী হয়রানি বাড়িয়ে দেয়। বাসের স্বল্পতার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা রাস্তার মাঝখানে উঠতে নামতে বাধ্য হয়। অনেক বাসযাত্রী দুর্ভোগ এড়াতে বা সময়মতো পৌঁছানোর জন্য অ্যাপ্সভিত্তিক মোটরসাইকেল, ট্যাক্সি বা প্রাইভেটকার ব্যবহার করে। এতে মোটর সাইকেল এবং প্রাইভেটকারের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে, সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানজটও।

বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভাল বাস থাকলে অনেকেই এ জাতীয় বাহনগুলো ব্যবহার না করে পাবলিক বাস ব্যবহার করবে। তাতে রাস্তায় ছোট যানের পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং যানজট অনেকাংশই কমে যাবে। সেই সাথে রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরানো ও বাস ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং যানজট দূর্ভোগ লাঘব হবে। কাজেই বিভিন্ন রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক বড় বাস নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। যে সমস্ত কোম্পানি পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস রাস্তার চালু রাখতে ব্যর্থ হবে তাদের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে। সেই রুটে বিআরটিসি তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস চালু রাখবে।