• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ৬ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

রাজুর স্বপ্নপূরণ হয়নি এখনও

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি

| ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

image

ঢাবিতে রাজু ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন -সংবাদ

সন্ত্রাসবিরোধী শহীদ রাজু দিবস ছিল গতকাল। ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয় ছাত্রলীগ-ছাত্রদল। সেই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তখনকার যুক্ত মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে প্রতিবাদ মিছিল বের করে ছাত্র ইউনিয়ন। মিছিলে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের কতিপয় সন্ত্রাসী গুলি চালালে নিহত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজু। এরপর থেকে দিনটি ‘রাজু দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। গুলিবিদ্ধ রাজুকে সহযোদ্ধারা নিয়ে যায় ঢাকা মেডিকেলে। রাত সাড়ে ১০টায় সবাইকে কাঁদিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলের নেতৃত্বদানকারী মঈন হোসেন রাজু মারা যান।

দিনটি স্মরণে তার স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় স্ব-উপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরের রাজু স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু করে সংগঠনটি। সেখানে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ, ঢাকা বিশণ্ডবিদ্যালয় সংসদ, বিশণ্ডবিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল সংসদ, বেসরকারি বিশণ্ডবিদ্যালয় সংসদ, মহানগর সংসদ, রাজু সংসদ পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে। এর বাইরে অন্য প্রগতিশীল সংগঠনসমূহ রাজুকে স্মরণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদও ফুল দিয়ে রাজুর প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত স্মৃতিফলকের সামনে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছাত্র ইউনিয়ন।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজু সক্রিয় ছিলেন। স্বৈরাচারের পতনের পর সবাই আশা করেছিল, ক্যাম্পাসে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরবে। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে রাজু স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তার সে স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। ক্যাম্পাসে এখনও সন্ত্রাস চলছে, দখলদারিত্ব চলছে। নোবেল বলেন, রাজু ভাস্কর্য একটি ত্রিমাত্রিক ভাস্কর্য, যেখান থেকে চারদিকের দৃশ্য দেখা যায়। অথচ এই রাজু ভাস্কর্যের ওপর দিয়েই মেট্রোরেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজু ভাস্কর্যের সৌন্দর্য বিঘিœত হবে। তিনি বলেন, রাজু ভাস্কর্য দিনের পর দিন অবহেলিত পড়ে থাকে। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ফেস্টুন লাগানো হয়। কিন্তু বিশণ্ডবিদ্যালয় প্রশাসন সেদিকে কোন নজর দেয় না। এই ভাস্কর্যই প্রশাসন রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছে না, রাজুকে তারা ধারণ করবে এটা আমাদের বিশণ্ডাস হয় না।

তিনি আরও বলেন, রাজু ভাস্কর্য এখন আন্দোলন সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যে সংগঠনগুলোর গোলাগুলিতে রাজু মারা গেছে, সে সংগঠনগুলোও এখন প্রতিবাদের জন্য রাজু ভাস্কর্যে যায়। রাজু হলো সন্ত্রাসবিরোধী আইকন, প্রত্যেকের উচিত তাকে স্মরণ করা। এজন্য বিশণ্ডবিদ্যালয় প্রশাসনকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আশা করি, তারা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন। প্রশাসন যদি রাজুকে সন্ত্রাসবিরোধীতার প্রতীক হিসেবে স্মরণ করতে পারে, তবে ঢাকা বিশণ্ডবিদ্যালয় ক্যাম্পাস গণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসমুক্ত হবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন মঈন হোসেন রাজু। তিনি ছিলেন তৎকালীন ছাত্র ইউনয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজুর প্রতিবাদী ভূমিকা আর সংগ্রামী চেতনাকে আশ্রয় করে রাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনের সড়ক মোড়ে তৈরি করা হয় ‘সন্ত্রাস বিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য’। ১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য একে আজাদ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন।